default-image

বাংলাদেশ সরকার, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস ও ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তির পর করোনার টিকা পাওয়া নিয়ে জনমনে যে আশার সঞ্চার হয়েছিল, সম্প্রতি তা হতাশায় রূপ নিয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে প্রথম চালানে ৫০ লাখ ডোজ এবং দ্বিতীয় চালানে ২০ লাখ ডোজ টিকা আসে। চুক্তি অনুযায়ী, সেরাম ইনস্টিটিউটের প্রতি মাসে ৫০ লাখ ডোজ টিকা সরবরাহের কথা। কিন্তু ৭০ লাখ ডোজের পর আর কোনো টিকা সরবরাহ করেনি প্রতিষ্ঠানটি। যদিও এর বাইরে ভারত সরকারের উপহার হিসেবে ৩৩ লাখ ডোজ টিকা এসেছে। সব মিলিয়ে আমাদের টিকার মজুত ১ কোটি ৩ লাখ ডোজ।

গত শুক্রবার প্রথম আলোর খবর অনুযায়ী, প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ মিলিয়ে ৭৮ লাখ টিকা দেওয়া হয়েছে। সরকারের হাতে যে টিকা আছে, তা ১৫ মের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। এ অবস্থায় টিকা পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সেরাম ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, টিকা রপ্তানির বিষয়ে ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞা আছে। এই প্রেক্ষাপটে বেক্সিমকো ফার্মার ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল হাসান টিকা পাওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারকে জোরালো ভূমিকা নিতে বলেন। এরপর দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক পর্যায়ে চিঠি চালাচালি হলেও এখন পর্যন্ত ইতিবাচক ফল মেলেনি। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আপাতত তারা টিকা রপ্তানি করতে পারছে না। তারা কারণ দেখিয়েছে, ভারতে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণ চাহিদা অনেক বেড়ে গেছে। তদুপরি যুক্তরাষ্ট্র টিকার কাঁচামাল সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

অনেকটা রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয়, উলুখাগড়ার প্রাণ যায়। ভারত-মার্কিন বাণিজ্য দ্বৈরথের শিকার হলো বাংলাদেশ। ভারতের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার পর সরকার চীন, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য উৎস থেকে টিকা সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে। রাশিয়ার সঙ্গে প্রাথমিক চুক্তি হয়েছে। চীনসহ দক্ষিণ এশীয় উদ্যোগেও বাংলাদেশ শামিল হয়েছে। অপর সদস্যগুলো হলো আফগানিস্তান, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। সরকারের এসব উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও তারা অনেক দেরি করে ফেলেছে। এর ফলে টিকা পেতে সময় লাগবে। ইতিমধ্যে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ জনজীবনকে বিপর্যস্ত করেছে। বিশেষজ্ঞরা শুরু থেকে বলে আসছিলেন, টিকার একক উৎসের ওপর নির্ভর করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। কিন্তু সরকারের নীতিনির্ধারকেরা তখন তা আমলে নেননি।

রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জানিয়েছেন, তাঁরা মে মাসে আরও ২১ লাখ ডোজ টিকা পাচ্ছেন। এর মধ্যে অক্সফোর্ড–অ্যাস্ট্রাজেনেকার ২০ লাখ ও কোভাক্সের ১ লাখ ডোজ। এটি প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সামান্য। সে ক্ষেত্রে মজুত টিকায় মে মাস চলতে পারে। এরই মধ্যে অন্যান্য সূত্র থেকে টিকা পাওয়া নিশ্চিত করতে হবে।

সরকার দেশের যেখানে ৮০ শতাংশ মানুষকে টিকা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, সেখানে তারা একটি মাত্র প্রতিষ্ঠান বা দেশের ওপর কীভাবে নির্ভর করল? দেশের ৮০ শতাংশ মানুষকে টিকা দিতে হলে ২৬ কোটি (১৩ কোটি লোক দুই ডোজ করে নিলে) চুক্তি অনুযায়ী যদি সেরাম ৩ কোটি ডোজ টিকা সরবরাহও করে, তারপরও ২৩ কোটি ডোজ সরকারকে অন্যান্য উৎস থেকে সংগ্রহ করতে হবে। টিকা সংগ্রহের পাশাপাশি দেশে এর উৎপাদনের বিষয়টিও সরকারের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভাবা উচিত ছিল।

বিজ্ঞাপন
সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন