বিজ্ঞাপন

স্বাভাবিক কারণে বাংলাদেশের টিকা পাওয়া নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে যাঁরা টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ১৩-১৪ লাখ মানুষ দ্বিতীয় ডোজ পাবেন না। টিকার প্রথম ডোজ নেওয়ার ৮ থেকে ১২ সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয় ডোজ নিতে হয়। সে ক্ষেত্রে জুনের মধ্যে অ্যাস্ট্রাজেনেকার উল্লিখিত পরিমাণ টিকা না এলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিপদে পড়বেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, তাঁদের নতুন কোনো কোম্পানির টিকা নিতে হলে আবার দুই ডোজই নিতে হবে।

সেরাম টিকা সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার পর সরকার চীন, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন উৎস থেকে টিকা সংগ্রহের জোর চেষ্টা চালাচ্ছে। চীনের সঙ্গে চুক্তিও হয়েছে। কিন্তু কবে নাগাদ কী পরিমাণ টিকা আসবে, কোনো পক্ষ থেকে জানানো হয়নি। যদিও চীনের কাছ থেকে উপহার হিসেবে ৫ লাখ ডোজ টিকা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ২ জুন কোভ্যাক্স কর্মসূচির আওতায় ফাইজারের তৈরি ১ লাখ ৬ হাজার ডোজ টিকা আসবে বলে সরকার জানিয়েছে। এসব হলো সমুদ্রে গোষ্পদতুল্য। আমাদের দরকার কোটি কোটি ডোজ। আর পাওয়া যাচ্ছে ৫ লাখ ও ১ লাখ।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মঙ্গলবার স্টাডি গ্রুপ অন রিজিওনাল অ্যাফেয়ার্স আয়োজিত এক ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে বলেছেন, একটিমাত্র উৎসের ওপর নির্ভর করার কারণেই টিকার সংকট দেখা দিয়েছে। ৮০ শতাংশ মানুষকে টিকা কর্মসূচির আওতায় আনার যে পরিকল্পনা সরকার নিয়েছে, তা বাস্তবায়ন করতে হলে ২৫-২৬ কোটি ডোজ টিকার প্রয়োজন হবে। এই বিপুল পরিমাণ ডোজ টিকার জন্য কেবল আমদানির ওপর নির্ভর করলে হবে না, ভারত অভ্যন্তরীণ কারণ দেখিয়ে চুক্তি হওয়ার পরও টিকা সরবরাহ বন্ধ রেখেছে। ভবিষ্যতে অন্য কোনো দেশ যে তা করবে না, তার নিশ্চয়তা কী। তাই দেশে টিকা উৎপাদনের প্রক্রিয়া যত দ্রুত শুরু হবে, ততই মঙ্গল।

টিকা পাওয়া নিয়ে জনগণ দুশ্চিন্তায় আছে। সরকার এ মুহূর্তে টিকা দিতে না পারলেও কবে পারবে, সে কথা বলুক।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন