দীঘিনালার এ সমস্যার দ্রুত সমাধান করুন

সম্পাদকীয়

দেশের আনাচে-কানাচে টেকসই সামাজিক সেবা ও নানা উন্নয়ন কর্মসূচির অসংখ্য প্রকল্প চলমান। সেসব প্রকল্প সামাজিক সুরক্ষা ও নিরাপত্তায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখে চলেছে। কিন্তু প্রায়ই আমরা খবর পাই, প্রকল্পগুলোর মাঠপর্যায়ের কর্মীদের বেতন-ভাতা আটকে থাকে। মাসের পর মাস বেতন-ভাতা ছাড়াও নিরলসভাবে কাজ করে যান সেসব কর্মী। সর্বশেষ আমরা দেখতে পেলাম, খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের টেকসই সামাজিক সেবা প্রদানের প্রকল্পের ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটেছে। সেই প্রকল্পের ২৮৫ জন পাড়াকর্মী তিন মাস ধরে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। এতে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন তাঁরা। অনেক কর্মী ঋণগ্রস্ত হয়েছেন। কেউ কেউ সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চালাতে পারছেন না। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।

প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, প্রকল্পটির আওতায় দীঘিনালার পাঁচটি ইউনিয়নে ২৫৯টি পাড়ায় ২৫৯ জন পাড়াকর্মী ও তাঁদের নিয়মিত তদারকির জন্য ২৬ জন মাঠ সংগঠক রয়েছেন। পাড়াকর্মীরা মাসে ৬ হাজার ৫০০ টাকা ও মাঠ সংগঠক ১০ হাজার টাকা বেতন-ভাতা পান। আগে নিয়মিত বেতন-ভাতা পেলেও ফেব্রুয়ারি থেকে বেতন বন্ধ রয়েছে। বেতন বন্ধ থাকলেও কাজ বন্ধ নেই। রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে কাজ করে যাচ্ছেন তাঁরা। সংসার চালাতে ও সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চালাতে কেউ ব্যবহার্য অলংকার, কেউ স্মার্টফোনও বিক্রি করে দিচ্ছেন।

উপজেলা পরিষদের নারী ভাইস চেয়ারম্যান সীমা দেওয়ান বলেন, প্রকল্পের পাড়াকর্মী ও মাঠ সংগঠকের দায়িত্বে থাকা নারীদের অধিকাংশই দরিদ্র। তাঁরা প্রকল্পের বেতন-ভাতার ওপর নির্ভরশীল।

তিন মাস ধরে তাঁদের বেতন-ভাতা বন্ধ থাকা খুবই দুঃখজনক ও অমানবিক। প্রকল্পের উপজেলা ব্যবস্থাপক শহীদুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, বরাদ্দ না আসায় মাঠ সংগঠকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। তবে সেই বরাদ্দ কখন আসবে, সেটি নিশ্চিত করেও বলতে পারেননি তিনি।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও বাজারের অস্থিরতার মধ্যে এতগুলো মানুষকে এভাবে দুঃসহ জীবনযাপনের দিকে ঠেলে দেওয়ার কোনো মানে হয় না। আমরা আশা করছি, পার্বত্যবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে।