বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সরকারি বা রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা ও টেকসই উন্নয়ন তাদের কাছে অনেকটা দুর্লভ বস্তুই বটে। তা নইলে স্মরণকালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় সিডরের ১৪ বছর পরও একটি আশ্রয়কেন্দ্র পেল না পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার কাউয়ারচরের মানুষ। অথচ উপজেলাটিতে সিডরের আঘাতে মারা গিয়েছিল ১০৪ জন। ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডরের আঘাতে কাউয়ারচরে ব্যাপক ক্ষতি হয়। সেই দুর্যোগের ১৪ বছর পূর্ণ হলেও সাগরঘেঁষা চরটিতে এখন পর্যন্ত কোনো আশ্রয়কেন্দ্র হয়নি। এখানকার প্রায় আট হাজার মানুষ এখনো দুর্যোগঝুঁকিতে রয়ে গেছে।

সিডরে কাউয়ারচর ও চর গঙ্গামতির সহস্রাধিক পরিবার আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে। এখানে অধিকাংশ পরিবার ছোট ছোট ঝুপড়ি তুলে থাকেন। বেশির ভাগ লোক চিংড়ির পোনা ধরেন। আবার কেউ ট্রলার বা নৌকায় কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। সিডরের পর ২৭টি পরিবারকে পাকা বাড়ি নির্মাণ করে দিয়েছিল একটি সংস্থা। সেগুলোরও দুরবস্থা এখন। উপজেলা শহর থেকে মাত্র ২৪ কিলোমিটার দূরত্বে থাকা এসব মানুষ প্রতিদিনই স্বাভাবিক জোয়ারে ভাসে। সেখানে সুখ বলতে সারা দিন মাছের পোনা ধরা শেষে এক প্লেট সাদা ভাত। নগরের জৌলুশ ও আধুনিক জীবনের মানে তাদের কাছে রূপকথার রাজ্যই বটে।

বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বাইরের চরের মানুষগুলোকে প্রতিনিয়ত আশ্বাস দিয়ে যান স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা। তবু তাদের ভাগ্য বদল হয় না। মূলত ভাগ্যবদলের কোটায় তারা পড়ে না। কলাপাড়া ইউএনও বলছেন, সেখানে দুর্যোগের সময় মানুষের আশ্রয়ের জন্য মুজিব কেল্লা নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে প্রথম আলোর প্রতিনিধি জানান, সেটির টেন্ডার হতে অপেক্ষা করতে হবে আগামী অর্থবছরের জন্য। অন্তত আরও দুই বছরও ভুগতে হবে এসব মানুষকে। যেসব মানুষ বড় একটা ঘূর্ণিঝড়ের ভুক্তভোগী, এখনো ঝুঁকিতে রয়েছে, ১৪ বছরেও কেন একটি আশ্রয়কেন্দ্র পেল না? তাহলে জলবায়ু মোকাবিলায় সরকারের সাফল্য নিয়ে নানা প্রচার কি অর্থহীন নয়?

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন