বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে সরকার একের পর এক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করলেও অর্ধেক শিক্ষার্থীর আবাসনের ব্যবস্থা করেনি। ফলে ছাত্র তো বটেই, ছাত্রীদেরও একটা বড় অংশকে ক্যাম্পাসের বাইরে থাকতে হয়। ছেলেরা যেকোনো স্থানে থাকতে পারেন। কিন্তু মেয়েদের পক্ষে তা সম্ভব নয়। বশেমুরবিপ্রবিতে তিন হাজার ছাত্রীর মধ্যে আবাসন হলে ঠাঁই হয়েছে মাত্র ৭০০ জনের। বাকি ছাত্রীদের ঘর ভাড়া করে থাকতে হয়। এটাও তঁাদের নিরাপত্তাহীনতার অন্যতম কারণ।

আরও উদ্বেগের বিষয় হলো গোপালগঞ্জে সহপাঠীর ধর্ষণের প্রতিবাদে যখন শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করছিলেন, তখন স্থানীয় লোকজন ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা তাঁদের ওপর আক্রমণ করেন বলে অভিযোগ আছে। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে জনগণের ভোগান্তি হলে সেটি দেখার দায়িত্ব প্রশাসনের, স্থানীয় বাসিন্দা ও ছাত্রলীগের নয়। যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীটি ধর্ষণের শিকার হন, তখন তাঁরা কোথায় ছিলেন? তাহলে কি দুর্বৃত্তদের সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের কোনো যোগসাজশ আছে?

দুর্বৃত্তদের নিবৃত্ত করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব তারা কতটা পালন করছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের একজন এলাকায় আগে থেকে
নানা দুষ্কর্ম করে আসছিলেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তখন নাকে তেল দিয়ে না ঘুমালে হয়তো মেয়েটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার শিকার
হতেন না। গ্রেপ্তার অপর দুজন স্থানীয় হরিজন সম্প্রদায়ের। সংশ্লিষ্ট পরিবার থেকে বলা হয়েছে, তঁাদের সন্তানেরা নিরপরাধ। প্রভাবশালীদের রক্ষা করতেই তঁাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগটি গুরুতর। সত্যিই
তাঁরা ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত না নিরপরাধ, তা–ও ভালোভাবে খতিয়ে
দেখতে হবে।

গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার দুজনই নারী।
একজন নারীর ওপর দুর্বৃত্তদের পাশবিক হামলার অভিঘাত কতটা মারাত্মক, পুরুষ কর্মকর্তারা উপলব্ধি করতে না পারলেও তাঁরা পারবেন আশা করি। অবিলম্বে সব দুর্বৃত্তকে গ্রেপ্তার করে বিচারে সোপর্দ করা হোক। তঁাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের অপরাধ করতে সাহস না পায়।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন