বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আয়কর আইনের সংস্কার না হওয়াই এনবিআরের একমাত্র সমস্যা নয়। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর নতুন কাস্টমস
আইন প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। সেই আইনও সংসদে পাস হয়নি। বর্তমানে ১৯৬৯ সালের কাস্টমস আইন দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চলছে। ৫১ বছর আগের আইন দিয়ে কেন এনবিআরকে চলতে হবে, তা বোধগম্য নয়। অন্যদিকে ২০১২ সালে ভ্যাট আইন প্রণীত হলেও ব্যবসায়ীদের আপত্তির কারণে প্রায় অর্ধযুগ বাস্তবায়িত হয়নি; ২০১৯ সালে বাস্তবায়ন শুরু হয়।

অর্থনীতির আকার যেভাবে বাড়ছে, সেভাবে করদাতা বাড়ছে না বলে বর্তমান ও সাবেক অর্থমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ২০০৯-১০ অর্থবছরে ১৪ লাখ কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী (টিআইএনধারী) বার্ষিক আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছেন। দীর্ঘ ১০ বছরে রিটার্ন জমাদানকারীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২২ লাখে। কিন্তু কর শনাক্তকরণ নম্বরধারীর সংখ্যা ৪২ লাখ। অথচ এই সময়ে অর্থনীতির আকার বেড়েছে কয়েক গুণ। সব মিলিয়ে ১০ বছরে রাজস্ব খাতে বড় আইনি ও কাঠামোগত সংস্কার হয়নি। ভ্যাট আইন চালু হলেও অনেক ক্ষেত্রে এর সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। এটা উপলব্ধি করা একান্ত প্রয়োজন যে পুরোনো আইন ও ব্যবস্থাপনা দিয়ে বিশাল রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব নয়। নতুন ও যুগোপযোগী আইন প্রয়োজন।

শুধু আইনগত ত্রুটি নয়, এনবিআরের কাঠামোগত দুর্বলতাও প্রকট। বর্তমানে জেলা পর্যায়ে এনবিআরের কার্যালয় আছে। ফলে উপজেলা পর্যায়ে ধনাঢ্য ব্যক্তিরা আয়করের বাইরে থেকে যাচ্ছেন। উপজেলা পর্যায়ে এনবিআর কার্যালয় থাকা জরুরি। আর অনলাইনে আয়কর ও ভ্যাট দেওয়া পুরোপুরি চালু হলে লোকবল বেশি বাড়াতে হবে না। সব মিলিয়ে, এনবিআরের গতানুগতিক ধারা থেকে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন। যত দ্রুত সম্ভব ব্যবসায়ীবান্ধব নতুন আয়কর আইন ও কাস্টমস আইন চালু করা হোক।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন