বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সেমিনারে সমালোচকদের অভিমত হলো, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আগে কিছু করতে না পারলেও কথা বলত। এখন কমিশন অধিকাংশ ক্ষেত্রে নীরব থাকে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো দেখেও না দেখার ভান করে। উদাহরণ হিসেবে দুটি ঘটনার উল্লেখ করেছেন আসকের পরিচালক নীনা গোস্বামী। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হাসেম ফুডস কারখানায় আগুনে পুড়ে ৫১ জন মারা যান। এর আগে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে কয়েকজন শ্রমিককে গুলি করে হত্যা করা হয়। অথচ দুটি ঘটনাতেই মানবাধিকার কমিশন ছিল নিশ্চুপ।

এ কথা ঠিক, যেকোনো আধুনিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে মানবাধিকার রক্ষার প্রধান দায়িত্ব সরকারের। কিন্তু সরকারের কোনো সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে কিংবা সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত ব্যক্তি নিজেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণ হয়ে দাঁড়ালে তার প্রতিকার কী। এসব ক্ষেত্রে মানবাধিকার কমিশনের এগিয়ে আসার কথা। তারা প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে কিংবা মানবাধিকার লঙ্ঘনের যেকোনো ঘটনা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তদন্ত করে সরকারের কাছে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করতে পারে। প্রয়োজনে উচ্চ আদালতেও যেতে পারে কমিশন।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আর কিছু না পারুক, অন্তত সরকার কিংবা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে পারে, ‘পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ’। কিংবা বলতে পারে, ভুল বা অন্যায় হয়েছে। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, এই প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত ব্যক্তিরাই পথ হারিয়ে ফেলেছেন।

মানবাধিকার কমিশনকে কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাঁড় করতে হলে প্রথমেই এর নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা থাকতে হবে। রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট হতে পারবে না। যাঁরা সেখানে চেয়ারম্যান-কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পাবেন, তাঁদের মানবাধিকারের প্রতি অঙ্গীকার থাকতে হবে। মানবাধিকারের চেয়ে চাকরি রক্ষাকে অগ্রাধিকার দিলে এই প্রতিষ্ঠান কখনোই কার্যকর হবে না। দেশের মানুষ এমন মানবাধিকার কমিশন চায় না, যা নখদন্তহীন বাঘ হবে, মানবাধিকার রক্ষায় কোনো ভূমিকাই রাখতে অক্ষম।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন