ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সমঝোতাসহ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় তোলার কথা যখন ভারতীয় গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে উচ্চারিত হচ্ছে, তখন তাদের নতুন এক নীতিমালার কারণে নেপাল ও ভুটান থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করতে বাংলাদেশের বাধার সম্মুখীন হওয়ার খবর আমাদের বিস্মিত করেছে। ভারতের নতুন নীতি কার্যকর হলে নেপাল ও ভুটান দ্বিপক্ষীয়ভাবে রাজি হলেও বাংলাদেশ তাদের কাছ থেকে বিদ্যুৎ আনতে পারবে না।
প্রতিবেশী দেশগুলোর সহযোগিতার সমন্বয়ে জনগণের জীবনমান উন্নয়নে ভারতীয় নেতাদের অঙ্গীকার সুবিদিত। ভারতের ভেতর দিয়ে নেপালে পৌঁছাতে স্থল ট্রানজিট পাওয়া নিয়ে আমরা দীর্ঘকাল ভারতীয় আপত্তির কথা শুনেছিলাম। এরপর কানেকটিভিটির ধারণাকে ভারত জনপ্রিয় করে তুলতে সক্ষম হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত উপ-আঞ্চলিক জোট বিবিআইএনকে (বাংলাদেশ, ভুটান, ইন্ডিয়া ও নেপাল) সফল ও কার্যকর করে তুলতেও নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। সুতরাং এই প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিনিয়োগে ভারতের ত্রিপক্ষীয় বা বহুমুখী উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ বোধগম্য নয়।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, ভারতের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশ সব সময় ত্রিপক্ষীয় চুক্তির কথাই বলেছে এবং ভারতের কর্মকর্তারাও কখনো এ বিষয়ে তাঁদের অসম্মতি প্রকাশ করেননি। অথচ এ রকম একটি প্রেক্ষাপটে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের জারি করা নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, ভারতের কোনো সংস্থা প্রতিবেশী দেশের কোনো সংস্থার সঙ্গে শুধু দ্বিপক্ষীয় চুক্তি করতে পারবে। ত্রিপক্ষীয় চুক্তি করতে পারবে না। কোনো সন্দেহ নেই, এত কিছুর পরও এ ধরনের সিদ্ধান্ত যে দেশের কেন্দ্রীয় প্রশাসন বা আমলাতন্ত্র নিতে পারে, তাদের বিষয়ে বাংলাদেশ প্রশাসনকেও আরও সাবধানি হতে হবে।
বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী আমাদের অবশ্য আশ্বস্ত করেছেন যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন ভারত সফরকালে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে একাধিক চুক্তি সই হবে। কিন্তু ভারত যদি আমাদের বিদ্যুৎ খাতের সহযোগিতা কেবল ‘দ্বিপক্ষীয়’ ঘেরাটোপে বন্দী রাখার মতো প্রবণতা দেখায়, তাহলে তার থেকে দুর্ভাগ্যজনক ও হতাশার আর কিছুই হতে পারে না। ভারতকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া উচিত যে পানি ও জ্বালানির মতো খাতে ত্রিপক্ষীয় সমঝোতাকে বাধাগ্রস্ত করলে অন্যান্য ক্ষেত্রে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। কোনো দেশের জনগণই তা সুনজরে দেখবে না। ভারতের বিবিআইএন স্বপ্নও বাধাগ্রস্ত হবে।
আশা করব দুই দেশের আসন্ন শীর্ষ পর্যায়ের আলাপ-আলোচনায় ওই বাধার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে এবং তার অপনোদন ঘটবে।