বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় ৫১৭ কিলোমিটার নৌপথ আছে। প্রতিবছর জেলার নৌপথের বিভিন্ন স্থানে নৌ দুর্ঘটনা ঘটে। জেলায় ডুবুরি না থাকায় ঘটনাস্থলে কিশোরগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ থেকে ডুবুরি পৌঁছাতে অনেক সময় লেগে যায়। ২৭ আগস্ট যে নৌকাডুবি হয়েছে, তাতে মারা গেছেন ২৩ জন। যে কয়জন প্রাণে বেঁচেছেন, তা প্রধানত ওই এলাকার স্থানীয় মানুষের সহায়তায়। এই ছবি অতিপরিচিত। স্থানীয় লোকেরাই বিপন্ন ব্যক্তিদের উদ্ধার করার দায়িত্বের সিংহভাগ পালন করে থাকেন। এটি প্রশংসাযোগ্য। কিন্তু যাঁরা দায়িত্বপ্রাপ্ত, তাঁরা দায় পালন না করলে তঁাদের বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া যাবে, তা সরকারের বিবেচ্য।

কর্তৃপক্ষের মনে রাখা দরকার, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নয়টি উপজেলার মধ্যে ছয়টিই নদীবেষ্টিত। বর্ষাকালে এসব উপজেলার মানুষ এক জায়গা থেকে আরেক জায়গা এবং উপজেলা থেকে জেলা শহরে নৌপথে যাতায়াত করে। জেলায় প্রতিবছরই নৌ দুর্ঘটনা ঘটে। জেলার দক্ষিণাংশে নৌকাডুবি হলে বা নদী ও বিলে পড়ে কেউ নিখোঁজ হলে চাঁদপুর থেকে ডুবুরি দল আসে। আবার জেলার উত্তরাংশে নৌকাডুবির ঘটনা ঘটলে কিশোরগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ থেকে ডুবুরি দলকে ডাকা হয়। কিন্তু অনেক দূর থেকে তারা আসে বলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়।

এ কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দ্রুত ডুবুরি পদ সৃষ্টি করা জরুরি। পাশাপাশি দেশের অন্য অঞ্চলের যেসব জেলায় ডুবুরিসংকট আছে, তা দ্রুত সমাধান করা উচিত। মনে রাখা দরকার, প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছেছিলেন কি না, সেটিই প্রশাসনিক তৎপরতার মাপকাঠি হতে পারে না। বিপর্যয় মোকাবিলায় প্রশিক্ষিত কর্মী ও পরিকাঠামো তৈরি আছে কি না, সেটাই বড় কথা।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন