প্রথম আলোর খবর অনুযায়ী, এ প্রকল্পে আট হাজার কিলোমিটার সড়কের ঝুঁকি পর্যালোচনা (আই-র‌্যাপ অ্যাসেসমেন্ট) ও মাঝারি পূর্তকাজ, চালকদের প্রশিক্ষণ, দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের বিনা মূল্যে অ্যাম্বুলেন্সসেবা দেওয়া, তিনটি হাসপাতালে দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার ব্যবস্থা বা ট্রমা সেন্টার চালু, আঁকাবাঁকা সড়ক সোজা করা এবং সিগন্যাল ব্যবস্থার উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে। ‘বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা’ শীর্ষক প্রকল্পটি ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর সময়ে বাস্তবায়নের কথা। প্রথম আলোর খবর থেকে জানা যায়, গত মার্চ মাসের মাঝামাঝি পরিকল্পনা কমিশনের বৈঠকে প্রস্তাবটি ফেরত পাঠানো হয়।

প্রকল্পের ব্যয়ের মধ্যে তিন হাজার কোটি টাকা বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ হিসেবে পাওয়ার প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। বাকি ১ হাজার ৩১৫ কোটি টাকার জোগান দিতে হবে সরকারকে। পরিকল্পনা কমিশনের একজন সদস্য বলেছেন, ‘তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে সড়কে মৃত্যুর সংখ্যা কমিয়ে আনা। এ জন্য এত পরামর্শকের কোনো কারণ আমরা দেখছি না। এত অস্বাভাবিক খরচের কোনো যৌক্তিকতা থাকতে পারে না।’

দেশে দুর্ঘটনায় প্রতিবছর পাঁচ থেকে ছয় হাজার মানুষ প্রাণ হারায়। বেসরকারি সংস্থা রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের হিসাবে, ২০২১ সালে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ৬ হাজার ২৮৪ জন নিহত এবং ৭ হাজার ৪৬৮ জন আহত হয়েছে। এ অবস্থায় সড়কের নিরাপত্তায় বাস্তবসম্মত ও টেকসই পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা আমরা অস্বীকার করছি না। তবে উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ এই নয় যে পরামর্শক নিয়োগের নামে বিশাল অঙ্কের অর্থ খরচ করতে হবে।

অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, যেসব উন্নয়ন প্রকল্পে বিদেশি ও উন্নয়ন সহযোগীরা অর্থায়ন করে, সেসব প্রকল্পে বেশি বেশি পরামর্শক নিয়োগ করা হয়। অনেক সময় দাতা সংস্থাগুলো পরামর্শক নিয়োগ করার জন্য চাপ দিয়ে থাকে। কিন্তু সরকার বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সেই চাপের কাছে নতিস্বীকার করবে কেন? সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে বিদেশি পরামর্শকের খুব বেশি দরকার নেই। দরকার হলো বিশৃঙ্খল সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং চালক-যাত্রী-পথচারী—সবাইকে আইন মানতে বাধ্য করা। দেশি বা বিদেশি বিশেষজ্ঞদের কোনো পরামর্শই কাজে আসবে না, যদি আমরা সড়ক ব্যবস্থাপনায় নিয়মশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে না পারি।

উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে ঢালাওভাবে পরামর্শক নিয়োগ না দিতে প্রধানমন্ত্রীরও স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। গত বছরের ১৮ মে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় তিনি বলেছিলেন, চোখ বন্ধ করে পরামর্শক নিয়োগ দেওয়া যাবে না। আলোচ্য প্রকল্পটি যাঁরা তৈরি করেছিলেন, তাঁরা সম্ভবত চোখ বন্ধ করেই কাজটি করেছেন।