বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, ২০১৬ সালে পুতুল চন্দ্রের সঙ্গে এলাকার আরও ৩০ জন নারী-পুরুষ প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। অন্যরা কেঁচো সার উৎপাদন করেছেন নিজেদের জমিতে ব্যবহারের জন্য। তবে পুতুল চন্দ্র বাণিজ্যিকভাবে কেঁচো সার উৎপাদনের চিন্তা করেন। কৃষি বিভাগই প্রথমবার তাঁকে কেঁচো সরবরাহ করেছিল। অবশ্য শুরুর জন্য এনজিও থেকে কিস্তিতে ১৫ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। এখন কেঁচো সার বিক্রি করে মাসে তাঁর আয় হচ্ছে ১৫ হাজার টাকা। অন্য কৃষকদের কাছে কেঁচো বিক্রি করেও আসছে বাড়তি আয়। পরিবেশবান্ধব ও প্রাকৃতিক কেঁচো সারই নতুন পথ দেখিয়েছে পুতুল চন্দ্রকে। সার বিক্রির টাকা দিয়ে ইতিমধ্যে তিনটি গরু কিনেছেন, নির্মাণ করেছেন টিনশেড বাড়ি, জমি লিজ নিয়ে করছেন শাকসবজির আবাদ।

কেঁচো সার তৈরির উপকরণও খুব সাধারণ ও সহজলভ্য। কেঁচোর সঙ্গে গরুর গোবর, কলাগাছের কাণ্ড বা সবজির ফেলে দেওয়া খোসা দিয়েই তৈরি করা যায় এ সার। দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক প্রদীপ কুমার গুহ জানিয়েছেন, জেলায় দুই শতাধিক কৃষক এখন কেঁচো সার উৎপাদন করছেন। এই সার জমিতে ব্যবহারের ফলে মাটিতে বায়ু চলাচল বাড়ে। ফলে গাছের শিকড়ের বৃদ্ধিও ত্বরান্বিত হয়। শতভাগ রাসায়নিকমুক্ত হওয়ায় এই সার জমি ও পরিবেশের জন্য উপকারী।

পরিবেশবান্ধব কেঁচো সার যাঁরা ব্যবহার করছেন, তাঁরা ইতিমধ্যে নানা সুফল পেয়েছেন। ফলন তাঁদের ভালো হচ্ছে। জমিতে রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমেছে, সার বাবদ খরচও কমেছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে কৃষি উৎপাদন বাড়ানো একটা বড় চ্যালেঞ্জ। এ ক্ষেত্রে জমির উর্বরতা বাড়াতে সার ব্যবহারের বিকল্প নেই। কিন্তু রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরশীলতা দীর্ঘ মেয়াদে জমির উর্বরতা কমিয়ে ফেলে। জলাশয়সহ প্রকৃতির দূষণ ঘটায়। সে ক্ষেত্রে কেঁচো সার কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় ভালো বিকল্প হতে পারে। কৃষি বিভাগকে এ ক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে হবে। পুতুল চন্দ্রের দৃষ্টান্ত ছড়িয়ে দিতে হবে।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন