default-image

দীর্ঘদিনের বৈষম্য ও সম্পদবঞ্চনায় নারীর আর্থসামাজিক ভিত্তি এমনিতেই দুর্বল ছিল। অতিমারি সেই দুর্বল দশাকে দুর্বলতর করেছে। বিশেষ করে টিউশনি কিংবা খণ্ডকালীন বিপণনের মতো অনানুষ্ঠানিক কাজে নিয়োজিত বহু নারীকে এই সময়ে বেকারত্ব বরণ করতে হয়েছে। এর মধ্যেও এমন কিছু নারী উপার্জনের সৃজনশীল ও সাহসী পন্থা অবলম্বন করে অন্য নারীদের আপন ভাগ্য জয় করার যুদ্ধে নামার প্রেরণা দিয়ে যাচ্ছেন।

পিরোজপুর সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের স্নাতক (সম্মান) চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী চন্দ্রিকা মণ্ডল তেমনই এক অদম্য নারী। তিনি টিউশনি করে পড়াশোনার খরচ চালাতেন। করোনাকালে সেই উপার্জন বন্ধ হয়ে যায়। নিজের খরচ মেটাতে তিনি মেয়েদের স্কুটি চালানো শেখাতে শুরু করেন। বর্তমানে তিনি পুরোপুরি পেশাদার প্রশিক্ষক হিসেবে নারীদের স্কুটি চালানো শেখাচ্ছেন। স্থানীয় লোকজনের কাছে তিনি এখন ‘স্কুটিকন্যা’।

বিজ্ঞাপন

জাতীয় মহিলা সংস্থা ও মহিলা পরিষদের পিরোজপুর শাখা থেকে গরিব ও মেধাবী ছাত্রীদের চলাচলে সুবিধার জন্য স্কুটি দেওয়া হয়েছিল। চন্দ্রিকা মণ্ডলও একটি স্কুটি পেয়েছিলেন। সেটিকেই তিনি এখন উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে নিয়েছেন। তাঁর কাছে যে নারীরা স্কুটি চালনা শিখতে আসেন, তাঁদের মধ্যে শিক্ষক, গৃহিণী, ছাত্রীসহ নানা পর্যায়ের মানুষ আছেন। অনেক নারী আছেন, যাঁদের ১৫-২০ কিলোমিটার দূরে প্রতিদিন পেশাগত কাজে যেতে-আসতে হয়। বাস কিংবা ইজিবাইকে যেতে-আসতে বেশি সময় ও অর্থ ব্যয় হয়। ওই নারীরা স্কুটিতে চলাচল করলে যাওয়া-আসা ও সন্তানদের বিদ্যালয়ে পৌঁছে দেওয়া সহজ হয়।

স্কুটি প্রশিক্ষক হিসেবে চন্দ্রিকা মণ্ডলের এই আত্মপ্রকাশকে নিতান্ত অর্থোপার্জনভিত্তিক সংকীর্ণ নিরিখে দেখার সুযোগ নেই। এর মধ্য দিয়ে সমাজে নারীর আত্মবিকাশের ধারা এগিয়ে নেওয়ার একটি চেষ্টা লক্ষণীয়। স্বীকার্য যে একজন নারীর স্কুটি কিংবা বাইক চালানো এক দশক আগেও বাংলাদেশের, বিশেষত গ্রামীণ সমাজে সহজ ব্যাপার ছিল না। এখনো সমাজের সর্বস্তর এটির সর্বান্তঃকরণ স্বীকৃতি দেয় না। তবে নারীর স্কুটি বা বাইক চালনার সঙ্গে জীবিকা ও প্রাত্যহিক প্রয়োজনীয়তার ক্রমবর্ধমান সংশ্লিষ্টতা জনমানসে পরিবর্তনের ধারা সৃষ্টি করছে। সেই পরিবর্তনের প্রবাহকে বেগবান করছেন চন্দ্রিকা মণ্ডলের মতো সাহসী নারীরা। সেদিক থেকে স্কুটিকন্যা চন্দ্রিকা সামাজিকভাবে অসামান্য অবদান রাখছেন। সে অবদানের স্বীকৃতি সমাজকেই দিতে হবে।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন