বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

১৫ সেপ্টেম্বর সাত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে করোনা পরীক্ষার আরটি-পিসিআর পরীক্ষাগার বসাতে নির্বাচন করে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়। এগুলোর মধ্যে ছয়টি প্রতিষ্ঠান স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) জমা দেয়। এসব এসওপি যাচাই করতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাঠানো হয়। তবে এর জবাব সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ এখনো দেয়নি।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান জানান, সাধারণ সময়ে প্রতিদিন ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ জন যাত্রী বাংলাদেশ থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে গিয়ে থাকেন। এখন যাত্রার ছয় ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে করোনার পরীক্ষা করা যাচ্ছে না বলে বাংলাদেশ থেকে কোনো প্রবাসী সে দেশে যেতে পারছেন না। করোনার একপর্যায়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। পরে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলেও শর্ত দেয় যে বিমানে ওঠার ছয় ঘণ্টা আগে করোনা পরীক্ষা করাতে হবে, সেটি একমাত্র বিমানবন্দরেই সম্ভব। কিন্তু বাংলাদেশের কোনো বিমানবন্দরে সেই সুবিধা নেই। অথচ প্রতিবেশী ভারতের নয়াদিল্লি, কলকাতাসহ বেশ কিছু বিমানবন্দরে পিসিআর ল্যাব আছে। প্রবাসী শ্রমিকদের জীবন-মরণ সমস্যা নিয়ে কর্তৃপক্ষের এই গাফিলতি কেবল নিন্দনীয় নয়, অমার্জনীয়ও।

প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমদ ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক মঙ্গলবার সদলবলে শাহজালাল বিমানবন্দর পরিদর্শন করেছেন। যদিও তঁারা বলতে পারেননি, কবে নাগাদ পিসিআর পরীক্ষা করা যাবে। স্থায়ীভাবে করোনার পরীক্ষাগার স্থাপনের জন্য বহুতল কার পার্কিং ভবনে যে স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে, তা নিয়েও অনেকের আপত্তি আছে। আরটি-পিসিআর বসানোর জন্য যে সাতটি কোম্পানিকে বাছাই করেছে সরকার, সেগুলোর মধ্যে ছয়টি তাদের কর্মপরিকল্পনা জমা দিয়েছে। আরটি-পিসিআর পরীক্ষা করতে সময় বেশি লাগে। তবে র‍্যাপিড পিসিআর করতে সময় কম লাগে।

আমরা আর বিলম্ব দেখতে চাই না। যত দ্রুত সম্ভব বিমানবন্দরে পিসিআর ল্যাব বসিয়ে প্রবাসী শ্রমিকসহ সংযুক্ত আরব আমিরাতগামী সব যাত্রীর পিসিআর পরীক্ষা নিশ্চিত করা হোক। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও গাফিলতির কারণে যদি কোনো প্রবাসী শ্রমিক চাকরি হারান, তার দায়দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন