default-image

পাওনা টাকার জন্য পাওনাদারের নানা ধরনের চাপের কথা আমরা শুনেছি। দেয় টাকা না পেলে ব্যাংক ঋণগ্রহীতার মালামাল ক্রোক করে, এনজিওগুলো গরু-ছাগল জব্দ করে। কিন্তু বৃহস্পতিবার গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের সিরাজপুর গ্রামে পাওনা টাকা আদায়ের জন্য যা ঘটল, তা অবিশ্বাস্য ও অচিন্তনীয়। পাওনা টাকার জন্য মানুষ এতটা নৃশংস হতে পারে!

প্রথম আলোর খবর অনুযায়ী, পাঁচ বছর আগে মমতাজ বেগমের স্বামী মারা গেলে তিনি তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করে মেয়েকে নিয়ে কোনোভাবে চলছিলেন। থাকতেন বন বিভাগের জমিতে। এ অনটনের মধ্যেও মেয়েকে পড়াশোনা করিয়েছেন। মেয়েটি এখন মণিপুর আইডিয়াল বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী।

বিজ্ঞাপন

প্রত্যেক মানুষই চান জীবনের উন্নতি হোক। মমতাজ বেগমও চেয়েছেন। এরই মধ্যে তিনি জিনের বাদশাহরূপী এক প্রতারকের খপ্পরে পড়েন। ওই ব্যক্তি তাঁকে বলেন, তিন লাখ টাকা দিলে তিনি বিশাল ধনসম্পদের মালিক হবেন। এরপর মমতাজ বেগম স্থানীয় গফুর ড্রাইভার, সবুজউদ্দিন, মনির হোসেনসহ কয়েকজনের কাছ থেকে সুদে ঋণ নিয়ে ওই জিনের বাদশাহকে দেন। এরপর থেকে তিনি লাপাত্তা। এদিকে ঋণের টাকার জন্য পাওনাদারেরা চাপ দিলে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ইব্রাহীম মধ্যস্থতা করেন এবং এক মাস সময় দেন। কিন্তু মাস শেষ হওয়ার আগেই পাওনাদারেরা দলবল নিয়ে মমতাজ বেগমের বাড়ি ঘেরাও করে মা- মেয়েকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করেন।

পাওনাদার গফুর মারধর করার কথা অস্বীকার করলেও ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ইব্রাহীম সিকদার জানান, খবর পেয়ে তিনি ওই বাড়িতে গেলে মা-মেয়েকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করার ঘটনা দেখতে পান এবং তাঁদের উদ্ধার করেন।

এ ঘটনায় পুলিশ উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের সিরাজপুর গ্রামের সবুজউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে। মমতাজ বেগম তাঁর বাবার কাছ থেকেও এক লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। এ ঘটনা সমাজের ক্রূরতার পাশাপাশি মানুষকে প্রতারণার দিকটিও উন্মোচিত করল। এভাবে কথিত জিনের বাদশাহরা অলৌকিক কাহিনি ফেঁদে গরিব নারী-পুরুষের সর্বস্ব হাতিয়ে নেন। টেলিফোন ট্র্যাক করে এই প্রতারককে ধরা কঠিন নয়। যাঁরা পাওনা টাকার জন্য মা-মেয়েকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করেছেন, পুলিশের হাতে তঁাদের একজন গ্রেপ্তার হয়েছেন। অন্যদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। পাওনা টাকার জন্য মা-মেয়ের অপমান গোটা সমাজেরই অপমান। সমাজে এমন কেউ কি নেই, যিনি বা যাঁরা এই দরিদ্র নারীকে ঋণমুক্ত করতে এবং মেয়েটির পড়াশোনার দায়িত্ব নিতে পারেন? মানুষ মানুষের জন্য।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন