আন্দোলনকারীরা সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন সংস্থার কাছে তাদের দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরলেও ইতিবাচক সাড়া পাননি। সরকারের এক সংস্থার ওপর দায় চাপিয়ে নিজেদের দায়িত্ব এড়াতে থাকে। নাগরিক প্রতিবাদের একপর্যায়ে সৈয়দা রত্না নামের এক নারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে থানা স্থাপনের উদ্যোগের প্রতিবাদ জানালে পুলিশ তঁাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে তঁার কিশোর বয়সী সন্তানকেও থানায় নিয়ে যায় এবং মধ্যরাত পর্যন্ত দুজনকে আটকে রাখে। পুলিশের এ আচরণের নিন্দা ও প্রতিবাদ আসে বিভিন্ন মহল থেকে। প্রথম আলো সম্পাদকীয় লিখে, বিভিন্ন মন্তব্য ও প্রতিবেদন প্রকাশ করে মাঠের যৌক্তিকতা তুলে ধরে।

সৈয়দা রত্না তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ‘বিশ্বাস ছিল, প্রধানমন্ত্রীর নজরে এলে মাঠ ফিরে পাব।’ এর আগে তিনি প্রথম আলোকে সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, মাঠ রক্ষা পেলে সবকিছু ভুলে যাব। তাঁর এ কথায় সব আন্দোলনকারীর মনোভাবই প্রকাশিত হয়েছে। তঁারা কেউ ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য আন্দোলন করছিলেন না। আন্দোলন করেছিলেন শিশু–কিশোরদের খেলার সুযোগ তৈরি করার জন্য।

আমরা এ–ও স্মরণ করতে পারি যে প্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষণা সহজে আসেনি। লাগাতার আন্দোলন সত্ত্বেও ডিএমপি থানার ভবন নির্মাণকাজ অব্যাহত রাখে, তারা ইতিমধ্যে জায়গাটি কিনে নিয়েছে এ যুক্তিতে। আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধিদল গত বুধবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের সঙ্গে দেখা করে মাঠ রক্ষার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। একপর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁদের দাবির বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে জানাবেন বলে আশ্বাস দেন। সেই প্রেক্ষাপটেই গতকাল প্রধানমন্ত্রী জানিয়ে দেন তেঁতুলতলা মাঠটি অক্ষুণ্ন থাকবে এবং সেখানে থানা স্থাপন করা হবে না।

এর মাধ্যমে সরকার স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবিই মেনে নেয়নি, প্রতিটি আবাসিক এলাকায় উন্মুক্ত স্থান রাখার প্রয়োজনীয়তাও স্বীকার করে নিল। আমরা মনে করি, প্রতিটি ওয়ার্ডে একাধিক খেলার মাঠ থাকা অপরিহার্য। অথচ প্রথম আলোর খবর থেকে জানা যায়, ঢাকার ৪১টি ওয়ার্ডে কোনো মাঠ নেই। মাঠ না থাকার অর্থ সেখানকার ছেলেমেয়েদের খেলাধুলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত রাখা। তাই সরকারের কাছে আমাদের দাবি থাকবে, প্রতিটি ওয়ার্ডে অন্তত একটি খেলার মাঠ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন