বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশের শ্রমবাজারে প্রতিবছর ২২ লাখ তরুণ প্রবেশ করেন; যঁাদের একাংশ উচ্চশিক্ষিত। কিন্তু এই তরুণেরা যে শিক্ষা নেন তা সময়ের চাহিদা মেটাতে পারছে না। ২০১৪ সালে ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে সবচেয়ে বেশি শিক্ষিত বেকারের দেশ বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। গত ছয় বছরে পরিস্থিতির খুব উন্নতি হয়েছে, এমন দাবি করা যাবে না। বাংলাদেশের জনসংখ্যার ৩৩ শতাংশ তরুণ। যদি এই তরুণদের আমরা উপযুক্ত কাজ দিতে পারি, তাঁরা দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে অবদান রাখবেন। নিজেদের জীবনমান বাড়ানোর সুযোগ পাবেন। আর যদি তাঁদের কাজে না লাগাতে পারি, তাঁরা সমাজে বোঝা হবেন, তাঁদের শিক্ষার পেছনে রাষ্ট্র ও পরিবারের ব্যয়ও বিফলে যাবে।

তরুণদের দক্ষতা বাড়াতে এখন যা প্রয়োজন, তা হলো তাঁদের প্রযুক্তির ব্যবহারে সক্ষম করে তোলা। এরপর সেই প্রযুক্তি আয়ত্তে আনার ব্যবস্থা করতে হবে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই যুগে কেবল শিল্প নয়, মানবজীবনের প্রতিটি মুহূর্ত প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে কৃষি, বাজার, শিক্ষাক্ষেত্রেও এর ব্যবহার সারা বিশ্বেই বেড়েছে। আমরা যতই ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা বলি না কেন, বাস্তবে খুব অগ্রগতি দেখাতে পারিনি। করোনাকালে অনলাইনে পাঠক্রম চালু করা হলেও তার সুবিধা পেয়েছে মুষ্টিমেয় শিক্ষার্থী। বেশির ভাগ শিক্ষার্থী এ সুবিধার বাইরে ছিল।

সরকারের নীতিনির্ধারকেরা প্রায়ই ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার কথা বলেন। রূপকল্প ২০৪১-এর স্বপ্ন দেখান। কিন্তু ডিজিটাল বাংলাদেশ কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে, তার ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না। তাঁরা ভুলে যান যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কিছু কম্পিউটার বিতরণ করলেই (অনেক স্থানে সেই কম্পিউটার চালানোরও লোকবল নেই) শিক্ষা ডিজিটাল হয়ে যাবে না। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে তরুণদের দক্ষ করার ক্ষেত্রে যেমন প্রযুক্তির প্রসার ঘটাতে হবে, তেমনি প্রযুক্তি ব্যবহারে তাঁদের অভিগম্যতাও বাড়ানোর বিকল্প নেই।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন