উল্লেখ্য, করোনার উপযুক্ত প্রতিষেধক এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। টিকা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাই ভরসা। টিকায় আমরা সফলতা দাবি করলেও এখনো সব নারী-পুরুষকে এ কর্মসূচির আওতায় আনা যায়নি। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মোশতাক হোসেনের মতে, বাংলাদেশে প্রথম ডোজ টিকা নিয়েছেন কমবেশি ৭০ শতাংশ মানুষ। যাঁরা প্রথম ডোজ নিয়েছেন, তাঁদের সবাই দ্বিতীয় ডোজ নেননি। তৃতীয় বা বুস্টার ডোজ নিয়েছেন আরও কমসংখ্যক মানুষ। বুস্টার ডোজও যেখানে করোনা সংক্রমণ থেকে শতভাগ সুরক্ষা দিতে পারে না, সেখানে প্রথম বা দ্বিতীয় ডোজ নেওয়া ব্যক্তিদের কোনোভাবেই নিরাপদ ভাবা যায় না।

এখনো যাঁরা টিকা নেননি, তাঁদের টিকা প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। সেই সঙ্গে এ-ও মনে রাখতে হবে এক ডোজ, দুই ডোজ বা বুস্টার ডোজ নিলেই সেই ব্যক্তি সারা জীবনের জন্য নিরাপদ থাকবেন, এমন কথা নেই। সময়ের ব্যবধানে টিকার কার্যক্ষমতাও কমে যায়। অনেক দেশে বুস্টার ডোজ দেওয়ার ছয় মাস পার হওয়ার পর চতুর্থ ডোজ টিকা দেওয়া শুরু করেছে। করোনা সংক্রমণের ক্ষেত্রে যাঁরা অত্যন্ত ঝুঁকিতে আছেন, বিশেষ করে প্রবীণ ও বৃদ্ধ মানুষ, তাঁদের সবাইকে টিকার আওতায় আনার জন্য নতুন করে উদ্যোগ নিতে হবে। টিকা গ্রহণের ক্ষেত্রে দেখা যাবে ঢাকার তুলনায় প্রত্যন্ত অঞ্চলে টিকা গ্রহণের হার অনেক কম। এই দিকটিতে বাড়তি নজর দিতে হবে।

করোনার সংক্রমণ থেকে রক্ষার আরেকটি উপায় হলো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, নিয়মিত মাস্ক পরা, দূরত্ব বজায় রাখা। দৈনন্দিন জীবনযাপনের জন্য অনেক সময় ভিড় বা জনসমাবেশস্থল এড়ানো যায় না। এ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। সংক্রমণ উচ্চ মাত্রায় থাকাকালে অনেকেই মাস্ক পরা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতেন, কিন্তু বর্তমানে সে ক্ষেত্রে শিথিলতা চলে এসেছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মোশতাক হোসেন মনে করেন, এ শিথিলতা দূর এবং সবাইকে নতুন করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলায় মনোযোগ দিতে হবে। নিজের ও অপরের সুরক্ষার জন্য এটি অত্যন্ত জরুরি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ২১ জুন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাস্ক পরা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে। তবে কেবল সরকারি অফিসে এ আদেশ প্রতিপালিত হলে হবে না, বেসরকারি অফিস, মার্কেট, জনসমাবেশস্থল, মেলা, পর্যটনকেন্দ্রেও সবাই যাতে মাস্ক ব্যবহার করেন, সেটাও নিশ্চিত করতে হবে। কাজটি করতে হবে ব্যক্তিগত, প্রাতিষ্ঠানিক ও সম্মিলিতভাবে।

সম্প্রতি করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে এমন ব্যক্তিও আছেন, যাঁরা দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হয়েছেন। অতএব করোনার বিষয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ক্ষেত্রে কোনো অবহেলা করা যাবে না। সচেতনতার পাশাপাশি টিকা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন