১২ থেকে ১৪ মে—এই তিন দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে বজ্রপাতে ৬২ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রাকৃতিক কারণে মাত্র তিন দিনে দেশে এত লোকের মৃত্যুর নজির সাম্প্রতিক সময়ে নেই। আবহাওয়া অধিদপ্তর সারা দেশের ৩৫টি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে পরিমাপ করে দেখেছে, খুলনা জেলার কিছু এলাকা ছাড়া সারা দেশেই বজ্রপাত আঘাত হেনেছে। বজ্রসহ ঝড়বৃষ্টি হওয়ার কারণ সম্পর্কে আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, নদী শুকিয়ে যাওয়া, জলাভূমি ভরাট হওয়া আর গাছ ধ্বংস হওয়ায় দেশে অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা এক থেকে দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে গেছে। এতে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর থেকে ভেসে আসা আর্দ্র বায়ু আর উত্তরে হিমালয় থেকে আসা শুষ্ক বায়ুর মিলনে বজ্রঝড়ের সৃষ্টি হচ্ছে।
বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়া নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একসময় দেশের বেশির ভাগ গ্রাম এলাকায় বড় বড় গাছ থাকত। তাল, নারকেল, বটসহ নানা ধরনের বড় গাছ বজ্রপাতের আঘাত নিজের শরীরে নিয়ে নিত। ফলে মানুষ বেঁচে যেত। এ ছাড়া দেশের বেশির ভাগ মানুষের কাছে এখন মুঠোফোন থাকছে। দেশের অধিকাংশ এলাকায় মুঠোফোন ও বৈদ্যুতিক টাওয়ার রয়েছে। দেশের কৃষিতেও যন্ত্রের ব্যবহার বেড়েছে। তা ছাড়া সন্ধ্যার পর মানুষের ঘরের বাইরে অবস্থান বাড়ছে। আর বেশির ভাগ বজ্রপাতই হয় সন্ধ্যার দিকে। ফলে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা।
কিন্তু পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, বজ্রপাতে অনেক মানুষ মারা গেলেও সরকারি নথিতে এটিকে দুর্যোগ হিসেবে গণ্য করা হয়নি। বজ্রপাতের মতো এমন প্রাণসংহারী ঘটনাকে দুর্যোগ হিসেবে গণ্য না করা এসব মৃত্যুকে অবহেলা করার শামিল। এখন যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তাতে বজ্রপাতকে দুর্যোগ হিসেবে গণ্য করে িনহত ব্যক্তিদের পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে সহায়তা করা উচিত। এ ছাড়া বজ্রপাতে মানুষের মৃত্যু কমাতে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। ভূমিকম্পের মতো বজ্রপাতের সময় মানুষের কী কী করা উচিত, সে বিষয়ে নির্দেশনা দিতে হবে। সরকারকে এখন এ ব্যাপারে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে হবে।