বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

হাতি বিশেষজ্ঞদের অনুসন্ধানের বরাতে প্রথম আলোর এক প্রতিবেদন জানাচ্ছে, শেরপুর থেকে শুরু করে কক্সবাজার ও পার্বত্য চট্টগ্রামে বন দখলকারী একটি প্রভাবশালী চক্র ভাড়াটে খুনি দল দিয়ে হাতি হত্যা করাচ্ছে। গুলি করে ও বিদ্যুতের ফাঁদ তৈরি করে হাতি হত্যা করছে চক্রটি। সরকারের পল্লী বিদ্যুৎ থেকে বিদ্যুৎ-সংযোগ নেওয়ার পাশাপাশি জেনারেটরের মাধ্যমে তার টেনে এসব ফাঁদ তৈরি করছে তারা। ফলে চলতি বছর ২০টি হাতিই মারা গেছে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে। বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের অবহেলা, দায়িত্বহীনতা বা যোগসাজশ না থাকলে সেটি কীভাবে সম্ভব হয়? বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগও বলছে, বনের ভেতর অবৈধ দখলদারেরা কীভাবে বিদ্যুৎ-সংযোগ নেয়, ফসলের চাষ করে আর অস্ত্র নিয়ে ঘোরাফেরা করে, তা দেখার দায়িত্ব একা আমাদের নয়। সরকারের অন্য সংস্থাগুলোর সহযোগিতা ছাড়া হাতি বাঁচানো যাবে না।

আমরা মনে করি, হাতি রক্ষার দায় এই কাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা বন বিভাগ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়কে নিতেই হবে। সংশ্লিষ্ট সবাইকে যুক্ত করার উদ্যোগ তাদেরই নিতে হবে। নির্বিচার হাতি হত্যার ঘটনাই প্রমাণ করে সংরক্ষিতসহ দেশের নানা ধরনের বনের ভেতরে কী ভয়াবহ দখলবাজি চলছে। প্রথম আলোর এক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী প্রভাবশালী রাজনৈতিক গোষ্ঠী বন দখলের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। নির্বিঘ্ন দখলবাজি চালাতে তাদের নির্দেশে হাতি হত্যার ঘটনা ঘটছে। তাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে না পারলে হাতির বিপন্ন হওয়া ঠেকানো যাবে না।

ফসল পাকার সময় হাতি শস্যখেত ও লোকালয়ে চলে আসে। শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ডের মতো দেশে বন বিভাগ পেশাদার মাহুত নিয়োগ করে থাকে, যাঁরা জিপিএস সিস্টেমের মাধ্যমে হাতির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেণ ও খাবারের ব্যবস্থা করে লোকালয় ও খেতের দিক থেকে তাদের চলাচল ঘুরিয়ে দেন। এমন আরও উদ্যোগ নিয়ে হাতি ও লোকালয়ে সুরক্ষা সম্ভব। হাতির নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিতে বৃহত্তর চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার এলাকায় বন বিভাগ থেকে হাতি চলাচলের জন্য চিহ্নিত ১২টি করিডর সংরক্ষণে নির্দেশনা চেয়ে গত রোববার হাইকোর্টে একটি রিট করা হয়েছে। হাতি হত্যা বন্ধে অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এখন করিডরগুলো সংরক্ষণ করাই জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ হাইকোর্টের আদেশ কতটুকু মানবে, সেটিই দেখার অপেক্ষা।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন