বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, বরেন্দ্র অঞ্চলের উঁচু জমিতে সেচসংকটে ধান ও সবজি চাষের প্রবণতা কমে গেছে। সেখানে এখন তুলা চাষে আগ্রহ তৈরি হয়েছে কৃষকদের মধ্যে। কম সেচ ও বৃষ্টির পানিতে কাজ হওয়ায় তুলা চাষে ঝুঁকছেন অনেকে। ফলন ভালো হলে বিঘায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা আয় করা যায়। জুলাই মাসে বৃষ্টির পানিতে বীজ বপন করে ডিসেম্বর মাসে তুলা ঘরে তোলা যায়। পাঁচ থেকে ছয় বছরে বরেন্দ্র অঞ্চলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল, গোমস্তাপুর ও নওগাঁর পোরশায় তুলা উন্নয়ন বোর্ডের তালিকাভুক্ত ২১০ জন চাষি প্রায় ৪০০ বিঘা জমিতে তুলার চাষ করছেন।

বরেন্দ্র অঞ্চলে পানির স্তর ক্রমান্বয়ে নিচে নামছে বলে ধানসহ অন্য ফসল উৎপাদনে সেচনির্ভরতা বাড়ছে। সেদিক থেকে তুলা চাষে পানি সেচের প্রয়োজন হয় না। জমি ও আবহাওয়া উপযুক্ত হওয়ায় বরেন্দ্র অঞ্চলে অর্থকরী তুলার চাষ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যভিত্তিক তুলাবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘কটন কানেক্ট’ বাংলাদেশে তুলার উৎপাদনের সম্ভাবনা নিয়ে যে গবেষণা করেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, দেশে তুলার উৎপাদন বাড়িয়ে কমপক্ষে ১০ লাখ বেল করা সম্ভব। বরেন্দ্র অঞ্চল এবং চরের জমিগুলো তুলা চাষের আওতায় আনলে তুলার উৎপাদন ২০ লাখ বেল করাও সম্ভব। তৈরি পোশাকশিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল তুলার বড় অংশ দেশে উৎপাদিত হলে কৃষকের পাশাপাশি এ খাতের উদ্যোক্তারাও লাভবান হবেন। বিশ্ববাজারের সঙ্গে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়বে।

বরেন্দ্র অঞ্চলে তুলা চাষের যে সম্ভাবনা, তার যথাযথ বিকাশের জন্য এখনই সমন্বিত পরিকল্পনা নিতে হবে। উপযুক্ত জমি নির্বাচনের পাশাপাশি তুলাচাষিদের প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও সহায়তা দিতে হবে। ভূমির তুলনায় বাংলাদেশের জনসংখ্যা অনেক বেশি। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার জন্য খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। আবার শস্য, সবজি আবাদের পাশাপাশি ফল ও অর্থকরী ফসলসহ কৃষি উৎপাদনে বৈচিত্র্য আনাও দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার জন্য জরুরি।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন