বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বাড্ডা থানা-পুলিশ বলেছে, শওকত নিজের বাইকে আগুন দিয়ে অন্যায় করেছেন। কিন্তু ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে যে সুযোগ পেলেই রাস্তায় গাড়ি আটকিয়ে মামলার ভয় দেখিয়ে যানবাহনের চালকদের কাছ থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আছে, তার বিহিত কী! এসব তো আরও বড় অন্যায়।

সড়ক পরিবহনের সর্বত্র বিশৃঙ্খলা। প্রথম আলোর খবর অনুযায়ী, ‘সড়ক, যান, চালক—কিছুই ঠিক নেই।’ সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ২০১৮ সালে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে সরকার সড়ক পরিবহন আইন করলেও সেটি কার্যকর করতে পারেনি পরিবহনমালিক ও শ্রমিক সংগঠনের বিরোধিতার মুখে। আইন করেছে আওয়ামী লীগ সরকার। আবার সেই আইনের বিরুদ্ধে ধর্মঘটও পালন করেছেন সরকার–সমর্থিত মালিক ও শ্রমিক সংগঠন।

২০১৮ সালে দেশে ফিটনেসবিহীন যানবাহনের সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৯৯ হাজার ৩৩। গত দুই বছরে ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও অবৈধ লাইসেন্সধারী চালকের সংখ্যা আরও বেড়েছে। বিআরটিএ সূত্র বলছে, বিভিন্ন শ্রেণির যানবাহনের জন্য চালক লাইসেন্স আছে প্রায় ২৮ লাখ। এগুলোর মধ্যে একই লাইসেন্সে একজন ব্যক্তি মোটরসাইকেল ও অন্য যানবাহন চালান। এঁদের বাদ দিলে চালকের সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ২০ লাখ। সারা দেশে নিবন্ধিত যানবাহনের সংখ্যা ছিল প্রায় ৩৮ লাখ। অর্থাৎ ১৮ লাখ যানবাহন ‘ভুয়া’ চালক দিয়ে চলছে। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে ভুয়া লাইসেন্স ব্যবহার করলেও বেশির ভাগ করছেন বাধ্য হয়ে।

সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে যাঁরা নিয়োজিত, তাঁরা সংস্থার অনিয়ম ও গাফিলতি না দেখে গরিব বাইকচালক ও অটোচালকের ওপর হামলে পড়েন। এতে সড়কে শৃঙ্খলা আসার বদলে একের পর এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে চলেছে। চালকদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া কিংবা মামলার ভয় দেখিয়ে নগদ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা হরহামেশাই ঘটছে। বিআরটিএতে একটি চক্র গড়ে উঠেছে, যারা লাইসেন্স দেওয়ার নাম করে চালকদের ঘোরায় এবং ফায়দা আদায় করে। সড়ক ও সেতুমন্ত্রী নিজেও বিআরটিএর দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ে একাধিকবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেননি। বিআরটিএর ঘুম ভাঙবে কবে?

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন