বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বাস কিনলে যে দর-কষাকষির সুযোগ থাকে, এ ক্ষেত্রে তা ছিল না। কেবল দক্ষিণ কোরিয়া নয়; চীন, ভারতসহ আরও যেসব দেশ পরিবহন খাতে ঋণ দিয়েছে, শর্ত হিসেবে তাদের বাসই কিনতে হয়েছে। ভারত ও চীন থেকে কেনা বাসও মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে অচল হয়ে পড়ে রয়েছে। অর্থাৎ ঋণদাতা দেশ বেশি দামে তাদের নিম্নমানের বাসই গছিয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশকে। বড় সমস্যা হলো বাস রক্ষণাবেক্ষণ করা যাঁদের দায়িত্ব, তাঁদের অবহেলা, অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বাসগুলো রাস্তায় নামার অযোগ্য হয়ে পড়ে। বাস ডিপোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বাসের নতুন যন্ত্রপাতি বিক্রি করে পুরোনো যন্ত্রপাতি লাগানো কিংবা আত্মসাৎ করার গুরুতর অভিযোগ আছে। বিআরটিসি দুই পদ্ধতিতে বাস পরিচালনা করে থাকে—নিজস্ব ব্যবস্থাপনা ও ভাড়াপদ্ধতিতে। যেসব সংস্থা ভাড়ায় বিআরটিসির বাস রাস্তায় নামায়, তারা এর রক্ষণাবেক্ষণের চেয়ে অধিক ট্রিপ দিয়ে বেশি মুনাফা পেতে উদ্‌গ্রীব।

প্রথম আলোর তথ্য অনুযায়ী, সব মিলিয়ে ১৫৩টি বাস লোহালক্কড় হিসেবে বিক্রির জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে বিআরটিসি। দায়্যু কোম্পানির অচল বাসগুলো বিক্রির ক্ষেত্রে দাম ধরা হয়েছে দুই থেকে তিন লাখ টাকা। ৮০ থেকে ৯০ লাখ টাকার বাস ১০ বছর না যেতেই যদি দুই লাখ টাকায় লোহালক্বড় হিসেবে বিক্রি করতে হয়, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এই জাতীয় অপচয়ের প্রতিকার কী? সরকারের নীতিনির্ধারকদের দাবি, বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে হাঁটছে। তাহলে কোটি কোটি ডলার খরচ করে বিদেশ থেকে বাস কিনতে হচ্ছে কেন? স্বাধীনতার ৫০ বছরেও কেন আমরা পরিবহন খাতকে স্বাবলম্বী করতে পারলাম না? অন্যান্য সংস্থার মতো বিআরটিসির সরকারি কর্মকর্তারা কেনাকাটায় যত উৎসাহী, পরিবহন খাতকে স্বাবলম্বী করতে ততটাই নিরুৎসাহী।

সম্প্রতি সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেছেন, দুদক তাঁর মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করতে পারবে এবং মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা তাঁদের সহায়তা করবেন। কিন্তু ২০১৮ সালে ওই সংস্থা মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি বন্ধে যে ২১ দফা সুপারিশ করেছিল, গত তিন বছরেও তা কেন বাস্তবায়িত হলো না? দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে কেবল মুখে ফাঁকা আওয়াজ তুললে বিআরটিসি তথা মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি কখনো বন্ধ হবে না।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন