বিজ্ঞাপন

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় ৫ এপ্রিল থেকে বিধিনিষেধ চলে আসছে। এখানে জীবন ও জীবিকার ভারসাম্য রক্ষার প্রশ্নটি জড়িত। বিধিনিষেধ থাকলে অর্থনীতির চাকা থেমে যায় এবং হতদরিদ্র ও স্বল্প আয়ের মানুষগুলো ভীষণ বিপদে পড়ে।

এ অবস্থায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন চালু ও হোটেল-রেস্তোরাঁ খোলা রাখার প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করা যায় না। কিন্তু প্রশ্ন হলো, বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধবে কে? সরকার যে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কথা বলেছে, তা মানতে বাধ্য করার কাজটি সহজ নয়। এ ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে যেমন অসচেতনতা আছে, তেমনি সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর গাফিলতিও আছে। ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার বিকল্প নেই।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের শুরুতে লকডাউন ও বিধিনিষেধ আরোপ করায় পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছিল। বিশেষ করে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে তুলনা করলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে আছে। এরই মধ্যে উদ্বেগজনক খবর হলো করোনার ভারতীয় ধরন ধরা পড়ার ঘটনা। সরকার স্থলসীমান্ত বন্ধের ঘোষণা দিলেও তা পুরোপুরি কার্যকর করা যায়নি। সীমান্তপথে জরুরি পণ্য আমদানি-রপ্তানি অব্যাহত আছে। ভারতে আটকা পড়া অনেকে দেশে ফিরে এসেছেন।

প্রথম আলোর খবর থেকে জানা যায়, ঈদের ছুটির পর সীমান্তবর্তী সাত জেলায় করোনা সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি। এই জেলাগুলো হলো যশোর, সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও সিলেট। এর সঙ্গে ভারতে যাতায়াতের সম্পর্ক আছে। শনিবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যে ১৪৬ জন করোনা রোগী ভর্তি ছিলেন, তার মধ্যে ৭৭ জনই চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাসিন্দা। একটি জেলায় এত বেশিসংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হলে অন্যান্য সীমান্তবর্তী জেলার অবস্থা সহজেই অনুমেয়। অনেকে বাধ্যতামূলক আইসোলেশনও মানেন না।

সে ক্ষেত্রে সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা আছে। ঈদের ছুটির আগেই দেশের বিভিন্ন স্থানে করোনাভাইরাসের ভারতীয় ধরন শনাক্ত হয়। অতএব সংক্রমণের মাত্রা সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সীমান্তবর্তী সব জেলায় নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে প্রতিটি নাগরিককে বাধ্য করার বিকল্প নেই।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন