বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রথম আলোর খবর অনুযায়ী, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অধিকাংশ শিক্ষার্থী এখনো করোনার টিকা নিতে পারেননি। টিকার জন্য নিবন্ধন করেছেন অর্ধেকের মতো শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের টিকাপ্রাপ্তি ও নিবন্ধনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কাছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তথ্য দেওয়ার কথা। ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের মোট ৫১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ২৪টি ইউজিসিকে তথ্য দিয়েছে। এতে দেখা যাচ্ছে, ৫৫ শতাংশ শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছেন। প্রথম ডোজ টিকা নিয়েছেন মাত্র ১৬ শতাংশ। যদিও ওই ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয় সব শিক্ষার্থীর পুরো তথ্য দিতে পারেনি।

অন্যদিকে ১৩ সেপ্টেম্বর মেডিকেল কলেজগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে। অনলাইনে মেডিকেল কলেজের পাঠদান প্রায় অসম্ভব। দ্রুত মেডিকেল কলেজ খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই। মেডিকেল শিক্ষা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন। মেডিকেল শিক্ষার্থীদের অধিকাংশ টিকা পেয়ে গেছেন।

টিকা নেওয়ার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়শিক্ষার্থীদের পিছিয়ে পড়ার কারণ সময়মতো তাঁদের টিকার আওতায় আনার ক্ষেত্রে মনোযোগ না থাকা। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ছিল। শিক্ষা মন্ত্রণালয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের। সবকিছু মিলিয়ে উদ্যোগ ও সমন্বয়ের অভাব ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় না খোলার প্রতিবাদে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক প্রতীকী ক্লাস নিয়েছেন। এ ধরনের ন্যায়ানুগ প্রতিবাদ সরকারের চৈতন্যোদয় ঘটাতে পারবে কি না, সে প্রশ্নের জবাব ভবিষ্যৎই দিতে পারে।

আমরা মনে করি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে যে হযবরল অবস্থা চলছে, তার দায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ইউজিসি, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কেউ এড়াতে পারে না। তাদের সম্মিলিত ব্যর্থতার কারণেই লাখ লাখ শিক্ষার্থী এখনো শ্রেণিকক্ষের বাইরে আছেন। আবাসিক হলে উঠতে পারছেন না। সরকারের নীতিনির্ধারকদের কথা শুনলে মনে হবে টিকা কোনো সমস্যা নয়। যদিও বাস্তবে দেখা গেছে, যত গর্জে তত বর্ষে না। তাঁরা প্রতিদিন কোটি কোটি ডোজ টিকার খোয়াব দেখাচ্ছেন। অথচ ৩০ থেকে ৪০টি বিশ্ববিদ্যালয়শিক্ষার্থীর টিকার ব্যবস্থা করতে পারছেন না।

আশা করি, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় টিকা যত দ্রুত সম্ভব সংগ্রহ করে তাঁদের শ্রেণিকক্ষে ফিরে আসা নিশ্চিত করা হবে।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন