ভালোবাসা প্রকাশের এমন দৃষ্টান্ত ছড়িয়ে যাক

সম্পাদকীয়

ফাল্গুনের দিন শুরু হয়ে গেল। গত সোমবার নানা উৎসব উদ্‌যাপনের মাধ্যমে সারা দেশের মানুষ বরণ করে নিল বসন্তকে। পশ্চিমা রীতি থেকে আসা ভালোবাসা দিবসও ছিল এদিন। বেশ কয়েক বছর ধরে দিবসটির উদ্‌যাপনও চোখে পড়ার মতো। ফলে দিনটিকে ঘিরে তরুণ প্রজন্মের মাতামাতি বেশি গুরুত্ব পেলেও ফাল্গুনী ভালোবাসা স্পর্শ করে যায় সব বয়সী মানুষকে। শুধু উৎসব ছাড়াও নানা সেবামূলক কাজের আয়োজনও দেখা যায় এদিন। যেমনটা আমরা দেখতে পেলাম ময়মনসিংহের এক চিকিৎসকের কাছে। গৌরীপুর পৌর শহরে হরিজনপল্লিতে গিয়ে সেখানকার মানুষের মধ্যে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা, কম্বল, ফুল ও এক বেলা খাবার উপহার দিয়ে ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন চিকিৎসক আমান উল্লাহ। এমন দিনটি উদ্‌যাপনে দারুণ দৃষ্টান্ত রাখলেন তিনি।

প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, পৌর শহরের গোহাটা এলাকায় হরিজনপল্লিতে গিয়ে প্রথমে হরিজনদের রজনীগন্ধা ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান আমান উল্লাহ। তাঁদের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন ও বিনা মূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দেন। পরে হরিজন শিশু ও নারী-পুরুষের মধ্যে কম্বল ও ফুল বিতরণ করেন। সবশেষে খাবার উপহার দিয়ে তাঁদের সঙ্গে খাওয়াদাওয়া করেন তিনি। এই চিকিৎসক বলেন, ‘হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষ পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করে কিন্তু সমাজে তারা কিছুটা অবহেলিত। অনেকেই তাদের খাটো করে দেখে। তাদের জন্য কিছু করার ইচ্ছা থেকেই এই দিনে আমি তাদের খোঁজখবর নিয়েছি।’

গত ৫০ বছরে সামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশের অগ্রগতি নিঃসন্দেহে ঈর্ষণীয়। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সূচকে দেশের সর্ব খাতের মানুষের অগ্রগতি আমরা দেখতে পাই। কিন্তু হরিজন, বেদে, দলিত সম্প্রদায় আর্থসামাজিক উন্নয়নে পিছিয়ে আছে। কয়েক দশক আগের তুলনায় চিত্রটা কিছুটা পাল্টালেও তাঁরা এখনো অবহেলিতই বলা যায়, এখনো তাঁদের অসম্মানের চোখেও দেখা হয়। এখনো আমাদের দেখতে হয়, এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে খুশিতে মেয়ে বাবাকে নিয়ে মিষ্টি খেতে গিয়েছিল কিন্তু হরিজন বলে দোকান থেকে বের করে দেওয়া হয় তাদের। এসব খবর খুবই হতাশাজনক। চিকিৎসা, শিক্ষাসহ অন্যান্য নাগরিক সুবিধা থেকে এখনো বঞ্চিত হরিজনেরা। তাঁদের শিশুদের গড়ে ওঠার পেছনে নানা সীমাবদ্ধতা ও প্রতিবন্ধকতা আমরা দেখতে পাই। ফলে চিকিৎসক আমান উল্লাহর এ ভালোবাসা তাঁদের কাছে অপ্রত্যাশিতই ঠেকে। হরিজনপল্লির সরদার বলছেন, ‘ডাক্তার সাবের কাছে ফুল পেয়ে বাচ্চারা অনেক খুছি। হামরা অনেক খুছি হইছি।’

হরিজনদের প্রতি এমন ভালোবাসা দেখানোর জন্য চিকিৎসক আমান উল্লাহকে আমরা সাধুবাদ জানাই। তাঁর মতো আরও কেউ কেউ যদি এভাবে প্রান্তিক অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়ান, তবে হতাশার মাঝে তা আলো ছড়িয়ে দেবে।