বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন লিবিয়ায় আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পাশাপাশি একটি উদ্বেগের কথাও বলেছেন। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার কান্ট্রি ডিরেক্টর তাঁর সঙ্গে দেখা করে বলেছেন, ‘যাঁদের লিবিয়া থেকে ফেরত আনা হয়, তঁারা আবারও সেখানে যান। যদিও এমন প্রবণতা আগের চেয়ে কমে এসেছে।’ ২০১৫ সালে লিবিয়ায় বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ বন্ধ ছিল। কয়েক বছর আগে সেখানে কর্মী নিয়োগ আবার চালু হলে পাচারকারীরাও তৎপর হয়ে ওঠে। যেসব এলাকা থেকে বেশি মানুষ লিবিয়ায় যাচ্ছেন, সেসব এলাকায় ক্রাশ প্রোগ্রাম নেওয়ার কথা বলেছেন পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন। মানব পাচার বন্ধে গণমাধ্যমের সহায়তাও চেয়েছেন তিনি।

পররাষ্ট্রসচিবের কথার উত্তরে বলা যায়, গণমাধ্যম বরাবরই মানব পাচার রোধে জোরালো ভূমিকা রেখে আসছে। কিন্তু সরকার কী করছে? তিনি যে ক্রাশ প্রোগ্রাম নেওয়ার কথা বলেছেন, সেটি কাজ করেই দেখাতে হবে। এর আগেও সরকারের নীতিনির্ধারকেরা পাচার রোধে নানা কর্মসূচির কথা বলেছেন। কিন্তু পরিস্থিতির খুব উন্নতি হয়েছে বলা যাবে না। একশ্রেণির রিক্রুটিং এজেন্সি বিদেশে জনশক্তি রপ্তানির নামে মানব পাচার করে থাকে। অনেক সময় তাদের অপরাধ উদ্‌ঘাটিতও হলেও ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।

আমরা আশা করব, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার অবিলম্বে লিবিয়ায় আটক সব বাংলাদেশি নাগরিককে ফেরত আনবে। সেই সঙ্গে বিদেশে লোভনীয় চাকরির নামে যে মানব পাচার হচ্ছে, তা বন্ধ করতেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। যে দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে আছে বলে সরকার দাবি করে, সেই দেশের তরুণেরা বিদেশে সাগরে ডুবে মারা যাবেন, মরুভূমিতে হারিয়ে যাবেন কিংবা নির্যাতন শিবিরে আটক থাকবেন কেন? সীমাহীন ঝুঁকি সত্ত্বেও কেন প্রতিবছর হাজার হাজার তরুণ দেশ থেকে বিদেশে অনিশ্চয়তার পথে পাড়ি জমান, সেটাও খতিয়ে দেখতে হবে। প্রবৃদ্ধিনির্ভর উন্নয়নের পরিবর্তে কর্মসংস্থানমুখী উন্নয়নের দিকেই মনোনিবেশ করতে হবে।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন