মায়ের অভিবাবকত্ব

১২ নভেম্বর প্রথম আলোতে ফিরোজ জামান চৌধুরীর ‘মায়ের অভিভাবকত্ব বনাম অসম উত্তরাধিকার’ শীর্ষক নিবন্ধের জন্য লেখককে অশেষ ধন্যবাদ।আমার দুই মেয়ে। আমি চাই আমার সব সম্পত্তি যেন আমার দুই মেয়ে পায়। ‘হেবা’ বিষয়ে লেখক আরও বিস্তারিত লিখলে বেশি উপকৃত হতাম। সরকারকে বলব বাবা-মার সম্পত্তিতে ছেলেমেয়ে সবারই সমনাধিকার নিশ্চিত করার পদ্ধতি খুঁজে বের করতে।লেখক একজন পুরুষ হলেও নারী অধিকারের পক্ষে যেভাবে সোচ্চার হয়েছেন তা আমার কাছে অবিশ্বাস্য ঠেকেছে। মনে হচ্ছে, দেশে এখনো আশাবাদী হওয়ার সুযোগ শেষ হয়ে যায়নি। বাংলাদেশে আমরা এমন হাজারও ভাই চাই, যাঁরা এমন কথা সাহসের সঙ্গে বলতে পারবেন এবং ব্যক্তি জীবনে তার প্রতিফলন ঘটাবেন।ইন্দোনেশিয়ার উদাহরণটা আমরা জানতাম না, এ লেখার মাধ্যমে অবগত হলাম। পৃথিবীর সর্ববৃহত্ মুসলিম দেশ ইন্দোনেশিয়ায় নারী-পুরুষের সমানাধিকার প্রচলিত রয়েছে। আমরাও নিশ্চয়ই একদিন আমাদের দেশে এ রকম কোনো আইন দেখতে পাব। শুধু ইসলাম নয়, বাংলাদেশে হিন্দু ও বৌদ্ধধর্মীয় আইনে উত্তরাধিকার নিয়ে নানা রকম অসংগতি রয়েছে। কিন্তু তার পরও আমি মনে করি ধর্মীয় আইন পরিবর্তনের চেয়ে সরকারের গুরুত্ব দেওয়া উচিত সিডও সনদের দিকে। জাতিসংঘ স্বীকৃত সিডওর আলোকে নতুন করে অভিন্ন উত্তরাধিকার আইন প্রণয়ন করলে তা বাস্তবায়ন করা সহজ হবে। বাংলাদেশে জীবনের সব ক্ষেত্রে ইউরোপীয় সিভিল ল বিদ্যমান। তাই উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে সিভিল ল বা এ ধরনের কোনো আইন করলে তাতে সমস্যার কিছু দেখি না। প্রত্যাশা করি, সরকার যেন মুসলিম বিশ্বের ইতিবাচক উদাহরণ নিয়ে এ বিষয়ে আইন প্রণয়ন করে আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে সঠিক দিকনির্দেশনা দেয়।দিলারা বেগমউন্নয়নকর্মী, ফেনী।