আইন করে নির্বাচিত সংস্থায় প্রশাসক নিয়োগের বিধান রাখার উদ্দেশ্য প্রশ্নবিদ্ধ। তাহলে কি সরকার এই স্থানীয় সরকার সংস্থাটি অনির্বাচিত নিজস্ব লোক দিয়ে চালাতে বদ্ধপরিকর? ২০০০ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জেলা পরিষদ আইন পাস হলেও নির্বাচন হয়েছে একবারই—২০১৬ সালে। এর বাইরে পুরো সময়টাই ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীদের নিয়োগ করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ জানিয়েছেন, জেলা পরিষদের নির্বাচন করার বিষয়ে ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে। পরিষদ ভেঙে যাওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। যেখানে ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার কথা, সেখানে কেন রাজনীতিকদের প্রশাসক নিয়োগ করা হবে? এই সময়ে প্রশাসক নিয়োগ করতে হলে জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের সেই দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। তা না করে রাজনীতিকদের নিয়োগ করার অর্থ পরিষদটিতে দলীয় প্রভাব নিশ্চিত করা।

২০১৬ সালে জেলা পরিষদের নির্বাচনটিও ছিল একতরফা। প্রধান বিরোধী দল বিএনপি নির্বাচন বর্জন করেছে। এমনকি সরকারের আস্থাভাজন বিরোধী দল জাতীয় পার্টিও এ নির্বাচনে অংশ নেয়নি। অন্য সব স্থানীয় পরিষদ বা সংস্থার নির্বাচন জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে হয়। কিন্তু জেলা পরিষদ ব্যতিক্রম। সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদের সদস্যরা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেন। গত নির্বাচনে ৬১টি জেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটার ছিলেন ৬৩ হাজার ১৪৩ জন। পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি জেলা পরিষদ পরিচালিত হয় আলাদা আইনে।

স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞরা জেলা পরিষদ আইনের অসংগতিগুলো দূর করার ওপর জোর দিয়েছেন। সরকার যে নিজের মর্জিমাফিক এ সংস্থা চালাচ্ছে, তা সংবিধান ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। সংবিধানে বলা আছে, প্রতিটি স্থানীয় সরকার সংস্থা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দ্বারা পরিচালিত হবে। অনিবার্য কারণে যদি সেখানে সাময়িকভাবে প্রশাসক বসাতে হয়, তারা কোনোভাবে রাজনৈতিক ব্যক্তি হতে পারবেন না। অন্য সব সংস্থার মতো প্রতিষ্ঠানটির নির্বাচন হতে হবে অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। সদ্য সমাপ্ত ইউনিয়ন পরিষদ অনেকটা একতরফা ছিল। সেই একতরফা পরিষদের প্রতিনিধিরা কাউকে নির্বাচিত করলেও সেটাও একতরফা হবে।

স্থানীয় সরকার সংস্থার নির্বাচন নিয়ে সরকার অনেক ছলচাতুরীর আশ্রয় নিয়েছে, যা স্থানীয় সরকার সংস্থাটির মূল্য উদ্দেশ্যই ব্যাহত করছে। এখন স্থানীয় সরকার সংস্থার প্রতিনিধি আর দলীয় নেতা-কর্মীর মধ্যে ফারাক করা কঠিন। এখানে নির্বাচন কমিশনের কাছেও প্রত্যাশা থাকবে তঁারা এমন নির্বাচন করবেন না, যাতে তাঁদের প্রতি জনগণের শেষ আস্থাটুকুও নষ্ট হয়ে যায়। যেহেতু ১৮০ দিনের মধ্যে জেলা পরিষদ নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা আছে, এটাই হবে কাজী হাবিবুল আউয়াল কমিশনের প্রথম পরীক্ষা।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন