বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সচ্ছলতা চাওয়ার মধ্যে কোনো অন্যায় নেই। মূলত এই আদিম রিপুর তাগিদেই মানবসভ্যতা এগিয়েছে। কিন্তু সচ্ছল থাকার ইচ্ছা এক কথা, আর তার জন্য কাণ্ডজ্ঞানবিস্মৃত হওয়া আরেক কথা। সর্বনাশের কথা হলো, অর্থের লোভে টেকনাফের কিছু সাধারণ মানুষ কী মাত্রায় কাণ্ডজ্ঞানবিস্মৃত হয়েছে, তা প্রথম আলোর একটি প্রতিবেদনে স্পষ্ট হয়েছে।

সেখানে দেখা যাচ্ছে, টেকনাফে ২০ হাজার ইয়াবা বড়িসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন পিয়নকে পুলিশ গ্রেপ্তার করার পর তিনি বলেছেন, তাঁর চোখের সামনে রিকশাওয়ালা, গাড়িচালক, দিনমজুরসহ অনেকে ইয়াবার কারবারে জড়িয়ে রাতারাতি বড়লোক বনে গেছেন। এতে তিনিও হঠাৎ বড়লোক হওয়ার জন্য ইয়াবা কারবারে জড়িয়েছেন। দীর্ঘ ২২ বছর তিনি টেকনাফসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চাকরি করেছেন। সেই চাকরিলব্ধ উপার্জন তাঁকে যে সম্মানজনক জীবিকা দিয়েছিল, তাতে তিনি সন্তুষ্ট থাকতে পারেননি। প্রতিবেশী দরিদ্রের আকস্মিক উত্থান তাঁকে বিচলিত করেছে।

প্রশ্ন হলো, ওই পিয়নের কাণ্ডজ্ঞানবিস্মৃতিতে যেসব হঠাৎ ধনী হওয়া ব্যক্তি উদ্দীপক হিসেবে কাজ করেছেন, তাঁদের বিষয়ে নজরদারি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য কী হতে পারে। দৃশ্যমান কোনো বড় ব্যবসা বা অন্য কোনো কর্মসংস্থানে যুক্ত না হয়েও একটি মাদক কারবার অধ্যুষিত এলাকায় দরিদ্র মানুষের হাতে অস্বাভাবিক পরিমাণে অর্থ আসছে কীভাবে, অবশ্যই তা খতিয়ে দেখার বিষয়। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না পেলে কিছু করার থাকে না—পুলিশ বা প্রশাসনের এ ধরনের গৎবাঁধা ভাষ্য এ ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য নয়। আলোচ্য গ্রেপ্তারকৃত পিয়নের ভাষ্য যে গভীর উদ্বেগের, তা অনুধাবন করা দরকার। মনে রাখা দরকার, শুধু ওই পিয়নের চোখের সামনেই রিকশাওয়ালা, গাড়িচালক, দিনমজুরসহ অনেকে ইয়াবার কারবারে জড়িয়ে রাতারাতি বড়লোক বনে যাননি। আরও অনেকের চোখের সামনেও ঘটনাগুলো ঘটছে। তারাও যে একই উদ্দীপনায় ইয়াবার কারবারে নামবে না, সে নিশ্চয়তা কে দেবে?

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন