বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এ সেতু নির্মাণে ব্যয় হয় ৪ কোটি ১৪ লাখ টাকা। কোনো রাস্তা ছাড়াই বনজঙ্গলঘেরা একটি পাথুরে পাহাড়ে গিয়ে শেষ হয় সেতুটি। কোনো চলাচল না থাকায় সেখানে মানুষ জামাকাপড় ও ধান শুকায়। এ ঘটনায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। সেই কমিটি সেতুটি পরিদর্শনের আগেই রাস্তা বানানোর জন্য পাহাড় কেটে ফেলল এলজিইডি। দরপত্রের মাধ্যমে নির্বাচিত ঠিকাদার এ কাজ করার কথা থাকলেও সেটি করা হয়নি। বলা হচ্ছে সড়ক নির্মাণ শুরুর পর রাস্তার দরপত্র হবে। তার মানে এখানেও অনিয়ম হলো।

পরিবেশ অধিদপ্তর জানাচ্ছে, ৬০০ ফুট দীর্ঘ সড়ক করতে তিন ধাপে প্রায় ৯০ হাজার ঘনফুট পাহাড়ের মাটি কেটে পরিবেশ ও প্রতিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করা হয়েছে। নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল সাদাত মো. জিল্লুর রহমান ও সহকারী প্রকৌশলী জামাল উদ্দিন পাহাড়টি কেটেছেন। বিপজ্জনকভাবে মাঝ বরাবর বনাঞ্চল উজাড় করে কেটে নামানো হয়েছে পাহাড়। বনাঞ্চলের বেশ কিছু গাছ উপড়ে পড়ে গেছে। এক অনিয়ম ঢাকতে গিয়ে একের পর এক অনিয়ম করেই গেল এলজিইডি।

অথচ নতুন সেতুর দরকার ছিল না সেখানে। কারণ, একই খালের ওপর কাছাকাছি আরেকটি সেতু ও এর পরে সড়ক আছে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের। সেটির সঙ্গে সমন্বয় করে নিলেই পারত এলজিইডি। উন্নয়ন বোর্ডের ওই প্রকল্প করতেও একবার পাহাড় কাটা পড়েছিল। ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী কয়েকজনের জমিকে সংযুক্ত করতে নতুন করে সড়ক ও সেতু করা হলো বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিবেশ অধিদপ্তর বিষয়টি তদন্ত করেছে। এখন তারা সিদ্ধান্ত নেবে। হয়তো এলজিইডিকে তারা জরিমানা করবে। পাহাড় কাটার ক্ষেত্রে শাস্তি হিসেবে যেটিই বরাবর হয়ে আসছে। কিন্তু জরিমানা করলেই কি পাহাড়টি আবার ফিরে পাওয়া যাবে? উন্নয়ন প্রকল্পের নামে স্বেচ্ছাচারীভাবে পাহাড় কাটার প্রবণতা কবে বন্ধ হবে?

এলজিইডির ভয়াবহ অনিয়মপূর্ণ প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন