
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিয়ে যে পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে বাংলাদেশ, সে ব্যাপারে আমাদের প্রতিবেশী ও বন্ধুদেশগুলোর নীরব থাকার সুযোগ নেই। বাংলাদেশ বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরেছে, কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, সংকট সমাধানে মিয়ানমারের ওপর এখনো কার্যকর কোনো চাপ সৃষ্টি করা যায়নি। এখনো শরণার্থীদের বাংলাদেশে আসা অব্যাহত রয়েছে। আমরা মনে করি, এ ব্যাপারে আমাদের প্রতিবেশী ও বন্ধুদেশগুলোর করণীয় রয়েছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব তাঁর সাম্প্রতিক দিল্লি সফরের সময় যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেছেন, এই সংকটের দ্রুত সমাধান না হলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নষ্ট হতে পারে। আমাদের প্রতিবেশী ও বন্ধুদেশগুলোকে এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিতে হবে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এটা জানা যে রোহিঙ্গা সংকটের কোনো দায় বাংলাদেশের নেই। অথচ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে গণহত্যা, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের চাপ বাংলাদেশকে নিতে হচ্ছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের এই ঢলকে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে শোচনীয় শরণার্থী সংকট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায় রয়েছে। প্রতিবেশী ও আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে ভারত ও চীনের কাছ থেকে এ ব্যাপারে জোরালো ও কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশিত। একইভাবে জাপান ও রাশিয়ার মতো দুই বন্ধুদেশেরও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের সুযোগ আছে।
রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যা দীর্ঘায়িত হলে এর ফল ভালো হবে না। সবচেয়ে বড় কথা, এতে শুধু যে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে এমন নয়, এই সংকটের প্রভাব আঞ্চলিক নিরাপত্তাকেও বিঘ্নিত করবে, যা চূড়ান্ত বিচারে ভারত বা চীনের মতো দেশগুলোকেও স্পর্শ করতে পারে। দিল্লি সফরে গিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব এই বার্তাই দিয়ে এসেছেন। জাপান ও রাশিয়ার মতো বাংলাদেশের দুই বন্ধুদেশ ও উন্নয়ন সহযোগীকেও এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিতে হবে।
মিয়ানমারে সন্ত্রাসী হামলা বা এর হুমকি ও আশঙ্কার বিষয়টিকে বাংলাদেশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করে এবং দেশটির নিরাপত্তার ব্যাপারে বাংলাদেশ সচেতন রয়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন সময়ে বিষয়টি জোর দিয়ে উল্লেখ করেছেন। এ নিয়ে মিয়ানমার বা আমাদের প্রতিবেশী ও অন্য বন্ধুদেশগুলোর সংশয়ের কোনো কারণ নেই।
আমরা আশা করব, বর্তমান রোহিঙ্গা সংকট এবং তা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার বিপদ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশগুলো বিবেচনায় নেবে এবং সংকট সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নিতে এগিয়ে আসবে। আমরা মনে করি, বাংলাদেশ সরকার এ ব্যাপারে যে কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে, তাকে জোরালোভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে বিষয়টি বোঝানো কঠিন হবে না।