বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

২০১০ সালে ঘোষিত জাতীয় শিক্ষানীতিতে শিক্ষা প্রশাসনে কাঠামোগত পরিবর্তন আনার কথা বলা হয়েছিল। যুগের চাহিদা মেটাতে পারে এমন শিক্ষাক্রম চালু ও উপযুক্ত শিক্ষক নিয়োগের ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের জন্য যে আইন দরকার, গত বছরেও তা খসড়া পর্যায়ে আছে। নোট বই, গাইড বই থাকবে কি থাকবে না, কোচিং সেন্টার চলবে কি চলবে না, সেই বিতর্কেই সময় চলে গেল। ইতিমধ্যে শিক্ষামন্ত্রী পদে পরিবর্তন এল। ২০২২ সাল থেকে পাঠক্রম পরিবর্তনের পরিকল্পনা ঘোষিত হয়েছে। কিন্তু শিক্ষাকাঠামোয় কোনো পরিবর্তন আসেনি। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে হলেও অধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ হচ্ছে আগের নিয়মেই, যেখানে ঘুষ ও রাজনৈতিক প্রভাব দুটোই সক্রিয়। জাতীয় শিক্ষানীতিতে বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগ কমিশন গঠনের কথা বলা হয়েছিল, তা–ও অদ্যাবধি কার্যকর হয়নি।

টিআইবির জরিপ গবেষণাটি তৈরি হয় ভুক্তভোগীদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে, যদিও সংস্থার নীতি অনুযায়ী তাঁদের নাম প্রকাশ করা হয় না। শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী স্বীকার করেছেন, সার্বিকভাবে শিক্ষা প্রশাসনে দুর্নীতি একটি চ্যালেঞ্জ। কারও দোষের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নিতে না পারলে এ ধরনের অভিযোগ ও ধারণা কমবে না। তাই শিক্ষা প্রশাসনে কাঠামোগত পরিবর্তন দরকার এবং তারা সেই চেষ্টা করছে।

কিন্তু একটানা ১২ বছর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার পরও যদি ‘আনা হবে’, ‘করা হবে’ ইত্যাদি আপ্তবাক্য শুনতে হয়, তার চেয়ে দুর্ভাগ্যের কী থাকতে পারে? শিক্ষা প্রশাসনে দুর্নীতি যখন বড় চ্যালেঞ্জ, সেটি মোকাবিলার চেষ্টা করা হচ্ছে না কেন? টিআইবির প্রতিবেদনটি ভিত্তি হিসেবে ধরেই সরকার সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে। ঘুষখোরদের জামাই আদরে রেখে মুখে যত বড় কথাই বলুন না কেন, শিক্ষা খাতে দুর্নীতি কমানো যাবে না।

টিআইবির প্রতিবেদনে কেবল শিক্ষা বিভাগের দোষ খোঁজা হয়নি, সমস্যা সমাধানের ২০ দফা সুপারিশও করা হয়েছে। সরকার এই সুপারিশকে ভিত্তি ধরেও কাঠামোগত সংস্কারের কাজটি করতে পারে। সর্বশেষ শিক্ষা খাতে অপ্রতুল বরাদ্দের কথাও বলতে হয়। টাকার অঙ্কে যা-ই হোক না কেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শিক্ষা খাতে বাংলাদেশের বরাদ্দের হার কম। আশা করি, এদিকেও নীতিনির্ধারকেরা দৃষ্টি দেবেন। শিক্ষা বিভাগে সব ধরনের ‘হাদিয়া সংস্কৃতি’ বন্ধ হোক।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন