বিজ্ঞাপন

স্বীকার করতেই হবে, এই চিত্র মোটেই স্বাভাবিক নয়। আশার কথা, ঢাকার তুলনায় সারা দেশের চিত্র অনেক ভালো। বরিশাল, জামালপুর ও নওগাঁর বিভিন্ন স্কুলের ২৬ হাজার ৩৪৭টি শিশুর চোখ পরীক্ষা করে ১৪ শতাংশের চোখে ত্রুটি পাওয়া গেছে।

গবেষণায় গ্রামের তুলনায় শহরের শিশুদের চোখে ত্রুটি পাওয়া গেছে বেশি, আবার শহরের তুলনায় রাজধানীতে এই ত্রুটি যে প্রায় তিন গুণ, তা তো আগেই বলা হয়েছে। অথচ গ্রামের তুলনায় শহরের মানুষ বেশি সচ্ছল, আবার শহরের তুলনায় রাজধানীর মানুষ। পুষ্টির অভাব তো তাদের হওয়ার কথা নয়। তাহলে কি তারা দামি খাবার খেলেও তাতে পর্যাপ্ত ভিটামিন ও পুষ্টি উপাদান কম থাকছে? নাকি শহুরে শিশুদের দীর্ঘ সময় ধরে টানা মুঠোফোন, কম্পিউটারের মতো ডিভাইসের দিকে তাকিয়ে থাকাই এর কারণ? এসব নিয়ে সুনির্দিষ্ট গবেষণা হওয়া প্রয়োজন। তারপর দরকার সে অনুযায়ী প্রতিবিধান। একটা পুরো প্রজন্মের এভাবে দৃষ্টিক্ষীণতা নিয়ে বড় হওয়াটা জাতির জন্য মোটেও কল্যাণকর নয়।

আশার কথা হচ্ছে, এসব ত্রুটির অধিকাংশই কিন্তু সময়মতো শনাক্ত করা গেলে পুরোপুরি সারিয়ে তোলা সম্ভব বা অন্তত ত্রুটিটাকে সেখানেই আটকে দেওয়া যায়। নির্দিষ্ট একটা সময় পর কিন্তু সেটা আর সম্ভব হবে না। অথচ এসব ব্যাপারে ব্যক্তি থেকে জাতীয়—সব পর্যায়েই আমরা বড় উদাসীন। উন্নত বিশ্বে ভর্তির পরপরই স্কুলে গিয়ে শিশুদের চোখ পরীক্ষা করানো হয়। বাংলাদেশেও এটা করা গেলে অনেক ক্রটিই আমরা অঙ্কুরেই সারিয়ে তুলতে পারি। কিন্তু এই সমস্যা সরকারের ঊর্ধ্বতন মহল কি আদৌ সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করবে?

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন