default-image

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে ঢাকায় বসেছিল ১০ দিনব্যাপী দক্ষিণ এশীয় মিলনমেলা। দক্ষিণ এশিয়ার পাঁচটি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান সরাসরি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে উচ্চমাত্রায় নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। আগত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহাম্মদ সলিহ, শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপক্ষে, নেপালের প্রেসিডেন্ট বিদ্যাদেবী ভান্ডারি, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এ ছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন, জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানসহ বহু রাষ্ট্রনেতা ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বাংলাদেশের সাফল্য কামনা ও সহযোগিতা বাড়ানোর অঙ্গীকার করেছেন।

যেকোনো দেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উল্লেখযোগ্য ঘটনা। বাংলাদেশের জন্য এটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ এ কারণে যে ৫০ বছর আগে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে দেশটি স্বাধীন হয়। সেই সময়ে বিশ্বনেতৃত্বের কেউ কেউ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করেছিলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কেও তাঁরা ছিলেন ঘোরতর সন্দিহান। কিন্তু ৫০ বছর পর আজ বিশ্বনেতাদের মুখে শোনা যাচ্ছে বাংলাদেশের উন্নয়নের তারিফ। একটি দেশের ৫০ বছর পূর্তিতে এটা সত্যিই এক বড় পাওয়া।

বিজ্ঞাপন

দক্ষিণ এশিয়ার নেতারা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর আয়োজনে যোগ দিতে এলেও তাঁদের কার্যক্রম কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমিত ছিল না, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন। বিভিন্ন বিষয়ে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। প্রত্যেক নেতাই একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার জন্য দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও বাণিজ্য বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন। প্রত্যুত্তরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও সমৃদ্ধ, গতিশীল ও উন্নত দক্ষিণ এশিয়া গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন।

উল্লিখিত পাঁচটি দেশের মধ্যে শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগের মাধ্যম নৌ ও বিমানপথ। মালদ্বীপে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাংলাদেশি শ্রমিক কাজ করেন। সে ক্ষেত্রে ঢাকা-মালে সরাসরি বিমান যোগাযোগ হলে উভয় দেশই লাভবান হবে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শ্রীলঙ্কা মানবসম্পদে এগিয়ে আছে। তৈরি পোশাক, স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমরা তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারি।

অপর তিনটি দেশ ভারত, নেপাল ও ভুটান উপ-আঞ্চলিক জোট বিবিআইএনের সদস্য। এর মধ্যে ভারতের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘ স্থল ও সমুদ্রসীমা আছে। স্থল ও সমুদ্রসীমা নিয়ে অতীতে যে বিরোধ ছিল, তা-ও পারস্পরিক আলোচনা ও আন্তর্জাতিক সালিসের মাধ্যমে মীমাংসা করেছি। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উদ্যোগী ভূমিকা বহির্বিশ্বে প্রশংসিত। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর দিনই চিলাহাটি-হলদিবাড়ী যাত্রীবাহী রেল যোগাযোগ চালু হয়েছে। এর আগে একই রুটে পণ্যবাহী রেল যোগযোগ চালু হয়। এটি নিঃসন্দেহে আনন্দের সংবাদ। কেবল রেল নয়, স্থল ও নৌপথেও যোগাযোগ সম্প্রসারিত হচ্ছে। স্থলবেষ্টিত নেপাল ও ভুটান বাণিজ্যের জন্য বাংলাদেশের নৌবন্দর ও বিমানবন্দর ব্যবহার করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। নৌ, স্থল, আকাশ ও রেলপথে চারটি দেশকে সংযুক্ত করতে পারলে আন্তর্দেশীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও পানিসম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা যাবে।

দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর নেতাদের বুঝতে হবে দ্বিপক্ষীয় বা বহুপক্ষীয় সংযুক্তি বাড়াতে হলে বকেয়া সমস্যাগুলোও দ্রুত মিটিয়ে ফেলা প্রয়োজন। সমস্যা জিইয়ে রেখে টেকসই সম্পর্ক আশা করা যায় না।

বিজ্ঞাপন
সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন