default-image

ডিসেম্বরের শুরুতে হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়ে আঙুলকাটা গ্রামের মন্নাফ মল্লিকের কয়েকটি গরু। ঠিক কী হয়েছে, বুঝে ওঠার আগেই ৬ ডিসেম্বর মারা যায় একটি গরু, পরের দুই দিনে মারা যায় আরও তিনটি গরু। অচিরেই সমস্যাটা শুধু মন্নাফ মল্লিকে সীমাবদ্ধ থাকে না, পুরো গ্রামেই ছড়িয়ে পড়ে। ২০ দিনে মারা যায় অন্তত ১৫টি গরু। বরগুনার আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের ওই গ্রামের আরও ২৫টি গরু গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। আতঙ্কিত গ্রামবাসী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে ছুটে যান। এ অসুস্থতার সঙ্গে মাটি ও পানির যোগ আছে, সন্দেহ করে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে মৃত্তিকাসম্পদ ইনস্টিটিউটকে অনুরোধ করে প্রাণিসম্পদ বিভাগ। সাড়া দিয়ে আঙুলকাটার কয়েক জায়গার মাটি, পানি ও কৃষিপণ্যের নমুনা পরীক্ষা করে ভয়াবহ তথ্য জানিয়েছে তারা। গ্রামটির মাটিতে রয়েছে স্বাভাবিকের চেয়ে ১৩৮ ও খড়ে ২ হাজার ৫৫৬ গুণ সিসা। গরুগুলোর মৃত্যুর কারণ এ মাত্রাতিরিক্ত সিসা। গরুর অন্ত্র নাকি মানুষের চেয়ে দুর্বল, তাই এ বিষ সহ্য করতে পারেনি, মরেছে। কিন্তু এ বিষাক্ত মাটিতে উৎপন্ন কৃষিপণ্য তো গ্রামবাসীও খাচ্ছে, তাদের কী হবে? তাৎক্ষণিক অসুস্থ না হলেও ভবিষ্যতে হতে পারে অ্যাজমা, হৃদ্‌রোগ ও ক্যানসারের মতো ভয়াবহ রোগ। তাদের খাদ্যতালিকা থেকে তাই সেখানে উৎপাদিত কৃষিপণ্য সরিয়ে নিতে পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু তাহলে তারা খাবে কী? অনেকের সারা বছরের খাবারের একমাত্র উৎসই তো এ কৃষিপণ্য।

তার থেকে বড় প্রশ্ন, বদ্ধ গ্রামের মাটিতে কোত্থেকে এল এ সিসা? এসেছে সিসার মণ্ড তৈরির একটি কারখানা থেকে। দুই বছর আগে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের ওপর এ বিষবৃক্ষ রোপণ করেছিলেন ইয়ামিন ফকির। পুরোনো ব্যাটারি ভেঙে সিসা গলানো হতো। সেই বিষবৃক্ষ এত দিনে ফল দিয়েছে। অথচ পরিবেশ আইনে সিসা কারখানা গড়ে তোলা নিষিদ্ধ। তারপরও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই দুই বছর ধরে চলেছে এ কারখানা, কেউ দেখেনি। আর দেখবেই–বা কে? উপজেলা তো দূর, অধিকাংশ জেলাতেই পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো কার্যালয় নেই। যেগুলোতে আছে, সেগুলোরও লোকবল এত কম যে তাদের পক্ষে জেলাজুড়ে নজরদারি করা খড়ের গাদায় সুচ খোঁজার মতোই কঠিন। সারা দেশটাই তাই অরক্ষিত পড়ে আছে।

বিজ্ঞাপন
সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন