সময়সূচি পরিবর্তন প্রসঙ্গে

‘তোমরা ঘড়ির কাঁটা বদলানোর মতো এত হাঙ্গামায় যাও কেন? অফিস টাইমটা বদলে দিতে পারো না? অফিস সময়টা অনড় রেখে ঘড়ির কাঁটা নিয়ে এ হুজ্জত করা যে মাথার পেছন দিয়ে হাত ঘুরিয়ে নাক ধরার মতো।’ শহীদ জননী জাহানারা ইমাম যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে সেখানকার ডে লাইট সেভিং টাইম (ডিএসটি) নিয়ে প্রবাসের দিনলিপি বইয়ে এ মন্তব্য লিখেছিলেন।সময়সূচী পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের বেশির ভাগ মানুষের কাছেই সুখকর হয়নি। ঘড়ির কাঁটার পরিবর্তিত অবস্থান দেখে বিভ্রান্ত অনেকেই। গ্রামের মানুষ এখনো সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখে দৈনন্দিন কাজকর্ম করছে। এ দেশে গ্রীষ্মকালীন ও শীতকালীন দিনের দৈর্ঘ্যের ব্যবধান দু-আড়াই ঘণ্টা। যেসব দেশে ডে লাইট সেভিং পন্থা রয়েছে, সেখানে এ ব্যবধান অনেক। আমাদের দেশের জন্য ডে লাইট সেভিং পন্থা প্রয়োগ কোনো কার্যকরী উপায় নয়। প্রথম আলোতে ফরিদা আখতারের কলামে এ সময়সূচির সঙ্গে সমন্বয় করতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে কত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে, সেটার চমত্কার বর্ণনা উঠে এসেছে। গত ৩১ অক্টোবর একই পত্রিকায় ফিরোজ জামান চৌধুরী তাঁর লেখায় বিদ্যালয়ের সময় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত উল্লেখ করেছেন।আমরা ছোটবেলায় দেখেছি, শীতকালে বিদ্যালয় এক ঘণ্টা দেরিতে শুরু শুরু হতো। কিন্তু নতুন সময় অনুসারে সাতটা ৩০ মিনিটে বিদ্যালয় শুরু হলে তা শিক্ষার্থী ও অভিভাবক উভয়ের জন্যই কষ্টকর হবে। তা ছাড়া পর্যাপ্ত ঘুমের ব্যাঘাত হলে শিক্ষার্থীদের পক্ষে শ্রেণীকক্ষে মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হবে না। সরকার জনগণের কল্যাণে সিদ্ধান্ত নেবে। তবে সিদ্ধান্ত জনগণের মতামত ও চাহিদার ভিত্তিতেই নিতে হবে। নতুবা জনগণ সরকারের সঙ্গে একাত্ম হবে না।ফরিদা রনিশেখেরটেক, মোহাম্মদপুর[email protected]