সরকারি হাসপাতালগুলোতে সাপে কামড়ানো রোগীর চিকিৎসার ওষুধ (অ্যান্টিভেনম) নেই। এমনকি কেন্দ্রীয় ঔষধাগারেও এই ওষুধের মজুত নেই। যেগুলো আছে, সেগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ। বিষয়টি স্বাস্থ্য খাতের অব্যবস্থা ও বিশৃঙ্খলার চিত্রই তুলে ধরছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে যদি সাপে কাটার চিকিৎসার ওষুধ না পাওয়া যায় তাহলে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়?
মে থেকে সেপ্টেম্বর—এই মাসগুলোতে সাপে কাটার ঘটনা ঘটে বেশি। বোঝা যায় এই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বা দায়িত্বশীল কোনো কর্তৃপক্ষের মাথায় নেই। যদি থাকত তবে সরকারি হাসপাতালগুলো এভাবে ওষুধ ছাড়া থাকার কথা নয়। ন্যাশনাল হেলথ ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি বন্যাকবলিত ১৯ জেলায় ২৫ জুলাই থেকে গত রোববার পর্যন্ত ১২০ জনকে সাপে কামড়ায়, এর মধ্যে ২৩ জন মারা যান। যাঁরা মারা গেছেন, তাঁরা হয়তো সময়মতো ওষুধ পেলে বেঁচে যেতেন।
সাপ সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানো এবং চিকিৎসার ওষুধ কেনার মূল দায়িত্ব স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক ব্যাধি কর্মসূচির। তারা ওষুধ কেনেনি বলে এই ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না। এটা দায়িত্বহীনতা ছাড়া আর কিছু নয়। সাপের বিষ শরীরে প্রবেশ করলে এর চিকিৎসার বিজ্ঞানসম্মত ওষুধ একটিই—অ্যান্টিভেনম। সাপে কাটা একজন রোগীকে সুস্থ করতে ১০টি অ্যান্টিভেনম ইনজেকশনের প্রয়োজন পড়ে। ফলে ওষুধ পাওয়া না যাওয়ার মানে চিকিৎসা বন্ধ থাকা। সরকারের একটি প্রতিষ্ঠানের শুধু ওষুধ কিনতে অবহেলার কারণে সাপে কাটা রোগীরা মারা যাবেন—এটা মেনে নেওয়া যায় না! বিষয়টির তদন্ত হওয়া জরুরি।
সাপে কাটা রোগীর প্রয়োজনীয় ওষুধের জোগান নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে ওষুধ সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হবে। কেন্দ্রীয় ঔষধাগারেও যাতে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম থাকে, সে ব্যবস্থাও করতে হবে।