সার কারখানার দূষণ

একটি সার কারখানা ভোগাচ্ছে পাঁচ গ্রামের মানুষকে। জমিতে ফসল হয় না, পানিতে মাছ বাঁচে না; সবচেয়ে মারাত্মক হলো এলাকাবাসীর স্বাস্থ্য সমস্যা। কারখানার আশপাশের স্কুলগুলোয় বাচ্চারা কারখানা-নির্গত গ্যাসের কারণে ক্লাসে টিকতে পারে না। ২৩ বছর ধরে এমনটা চলছে অথচ কোনো প্রতিকার নেই!
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে ১৯৯১ সালে গড়ে ওঠে যমুনা সার কারখানা। কারখানা থেকে নিয়মিতভাবে অ্যামোনিয়া গ্যাস ছাড়া হয়। বৃহস্পতিবারের প্রথম আলো প্রতিবেদন জানাচ্ছে, এই গ্যাসের কারণে পাঁচ গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অ্যামোনিয়া গ্যাসের বাইরে ছড়িয়ে পড়া জনবসতি ও কৃষিজমির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। দীর্ঘদিন এ রকম বিষাক্ত হাওয়ায় নিঃশ্বাস নিলে, চোখে-মুখে এই গ্যাস প্রবেশ করলে শারীরিক ক্ষতি হওয়া নিশ্চিত।
সরিষাবাড়ী উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা এ ব্যাপারে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে প্রতিবেদনও পাঠিয়েছেন। কিন্তু উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কোনো সাড়া দেখা যায়নি। অথচ সবার আগে তাঁরই উদ্বিগ্ন হওয়ার কথা। এদিকে পরিবেশ অধিদপ্তর ঢাকা কার্যালয় জানিয়েছে, ‘অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ জেলা-উপজেলা পর্যায়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের যে প্রতিনিধি আছেন, তিনি এত দিন কী করেছেন তাহলে? কৃষি ও বসতি এলাকায় এ ধরনের কারখানা নির্মাণের অনুমোদন দেওয়ার কথা নয় অথচ সেটাই করা হয়েছে।
যথারীতি যমুনা সার কারখানা কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির গুরুত্ব খাটো করে দেখছে। শিল্প মন্ত্রণালয় ও পরিবেশ অধিদপ্তরের তদন্ত করে দেখা উচিত, নির্গত গ্যাসের ক্ষতির মাত্রা কতটুকু। এই গ্যাস প্রক্রিয়াজাত করে সহনীয় মাত্রায় আনার প্রযুক্তি স্থাপনে কারখানা মালিকদের বাধ্য করাও তাদেরই কাজ। স্বাস্থ্য দপ্তরের উচিত, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় স্বাস্থ্যবিষয়ক অনুসন্ধান চালানো।
আমরা শিল্পোৎপাদন যেমন চাই, তেমনি তা যেন পরিবেশ, কৃষিজমি ও জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি না করে, তারও নিশ্চয়তা চাই। রাসায়নিকভাবে বিপজ্জনক কারখানাগুলো বিশেষ শিল্প এলাকায় সরিয়ে নিতে হবে। কারখানায় দূষণ প্রতিরোধক প্রযুক্তি স্থাপনেও কোনো গড়িমসি করা চলবে না।