বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সীমান্তে অস্ত্র ও মাদকের চোরাচালান সব সময় হয়ে থাকে। কয়েক দিন আগে পত্রিকায় খবর ছিল, বাংলাদেশে ইয়াবা সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সীমান্তবর্তী পশ্চিমবঙ্গ ও মেঘালয়ে বেশ কিছু ইয়াবা কারখানা স্থাপিত হয়েছে। প্রথম আলোর খবরে যে ১১টি রুট দিয়ে অবৈধ অস্ত্র বাংলাদেশে ঢোকার কথা বলা হয়েছে, সেগুলো হলো যশোরের বেনাপোল, রাজশাহীর গোদাগাড়ী, চুয়াডাঙ্গার দর্শনা, সাতক্ষীরার শাঁকারা, মেহেরপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুমিল্লা ও বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি এবং কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়া। মাদক ও অস্ত্র আসার রুটগুলো মোটামুটি এক।

বাংলাদেশ সীমান্তে চোরাচালান বন্ধের দায়িত্ব বিজিবির। আর দেশের ভেতরে অস্ত্র উদ্ধারের দায়িত্ব পুলিশ ও র‍্যাবের। বিজিবির দাবি, চলতি বছরের ৯ মাসে ৮৩টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১৭৫টি গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। আর র‍্যাব চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে ৬২টি অস্ত্র উদ্ধার করেছে। কিন্তু এই সংখ্যাই সব নয়। উদ্ধার না হওয়া অস্ত্রের খবর তখনই জানা যায়, যখন সেই অস্ত্র ব্যবহার করতে গিয়ে ডাকাত ও খুনিরা ধরা পড়ে। গত ১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর দারুস সালামে ছাত্রলীগ নেতা আকুল হোসেন আটটি পিস্তল, বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদসহ ধরা পড়েছেন। তিনি ভারত থেকে অস্ত্র এনে বিক্রি করতেন। অস্ত্র ব্যবসায় ক্ষমতার ছত্রচ্ছায়ায় আরও কত আকুল আছেন, তা খুঁজে বের করা দরকার।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন স্থানে যে খুনের ঘটনা ঘটছে, তাতেও সীমান্তের ওপার থেকে আসা অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে বলে প্রথম আলোর খবর থেকে জানা যাচ্ছে। এবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৪৯ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৬ জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

অস্ত্র কিংবা মাদক একবার সীমান্ত দিয়ে ঢুকলে তার হাতবদল হবেই। অতএব, সীমান্তেই তা ঠেকাতে হবে। এ ক্ষেত্রে সীমান্তে পাহারা যেমন জোরদার করতে হবে, তেমনি অস্ত্রের পাচার ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনতে হবে। অপরাধীর সমুচিত শাস্তিই পারে অস্ত্রের চোরাচালান বন্ধ করতে।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন