প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, উপজেলার পয়ালী গ্রামে অবস্থিত এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নারায়ণপুর, মালাপাড়া, গাবুয়া, চিরায়ু, মণিগাঁও, হরিদাসপাড়া, কালিকাপুর, বদরপুর, নাটশাল, দৌলতপুরসহ আশপাশের ৪০টি গ্রামের নারীরা এখানে প্রসবসেবা নিচ্ছেন। প্রতি মাসে ১৫-১৬টি স্বাভাবিক প্রসব হয় সেখানে। ২০১৩ সাল থেকে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে ১ হাজার ১৭০টি স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে। স্বাভাবিক প্রসবের ক্ষেত্রে নিঃসন্দেহে দারুণ ভূমিকা রাখছে এ স্বাস্থ্যকেন্দ্র। কিন্তু সেখানকার দুটি কক্ষ দখল করে রেখেছে ইউনিয়ন পরিষদ। ২০১০ সাল থেকে সেখানে চলছে ইউপির দাপ্তরিক কার্যক্রম। এতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে আসা নারীদের স্বাভাবিক সেবা গ্রহণ বিঘ্নিত হচ্ছে। ওই ইউপির স্থায়ী কার্যালয় না থাকায় এ সমস্যা হয়েছে বলে দাবি চেয়ারম্যানের।

ইউপির উদ্যোক্তা (ইউডিসি) স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে কাজ করায় তাঁর কাছে আসা লোকজনের হইচইয়ের শব্দে প্রসূতিদের ভোগান্তি-অস্বস্তি বাড়ে। এক গৃহিণী বলছেন, ‘অনেক লোকের ভিড় ও হইচই। লোকজন ঠেলে কোনোরকমে ভেতরে ঢুকি। মানুষের বাঁকা চাহনি ও নানা মন্তব্যে অস্বস্তি বোধ করি। তবু হেনোই আমাগো স্বাভাবিক প্রসব অয়। আশপাশে অনেক পুরুষ থাকায় প্রসবের আগে লজ্জায় ভালা কইরা চিৎকারও দিতে পারি নাই। এইডা মায়েদের প্রতি অন্যায়।’ এমন পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যকর্মীদের কাজেও মনোযোগ থাকে না। এতে প্রসূতিদের জীবন ঝুঁকিতে থাকছে। নিরাপদ মাতৃত্বের স্বার্থে সেখানে ওই ইউপির কার্যক্রম বন্ধ হওয়া জরুরি।

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বলেছেন, সেখান থেকে কার্যক্রম সরাতে একাধিকবার ওই ইউপির চেয়ারম্যানকে লিখিত ও মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। এরপরও ইউপির কার্যক্রম সরেনি। ইউপির চেয়ারম্যান বলছেন, ছাদ ভেঙে যাওয়ায় ইউপি ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। নতুন ভবনের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গাও পাওয়া যাচ্ছে না। ব্যক্তিগত বাসায়ও তিনি ইউপির কিছু কার্যক্রম চালাচ্ছেন। কেন এত বছর ধরে এ সমস্যার সমাধান করল না স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন? এ অব্যবস্থাপনার দ্রুত সমাধান করা হোক।