বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, পটুয়াখালী জেলা শহর থেকে ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে রাঙ্গাবালীর অবস্থান। দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, উত্তরে আগুনমুখা নদী, পূর্বে বুড়াগৌরাঙ্গ ও পশ্চিমে রাবনাবাদ নদ-নদীবেষ্টিত দ্বীপ উপজেলা রাঙ্গাবালী। ২০১২ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি এই উপজেলার প্রতিষ্ঠা। প্রায় এক দশকেও রাঙ্গাবালীতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মিত হয়নি। গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে এই উপজেলা। রাঙ্গাবালীর চিকিৎসাসেবার জন্য রয়েছে চারটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও একটি উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র। এই পাঁচ স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রে পাঁচজন চিকিৎসকের পদ থাকলেও আছেন তিনজন। তবে আবাসন না থাকায় তাঁরা রাতে সেখানে থাকেন না। চারটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মধ্যে একটি লোকবলের অভাবে বন্ধ রয়েছে। অন্য তিনটিতে প্রয়োজনের তুলনায় লোকবল কম।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা কাঠামোতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গুরুত্ব অপরিসীম। জাতীয় স্বাস্থ্যনীতিতে সবার জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্য ও জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তা বাস্তবায়নে এটি ভিত্তি হিসেবেই কাজ করে। প্রাথমিক অবস্থায় রোগের চিকিৎসা দেওয়া গেলে জটিল আকার ধারণ করার আগেই রোগ নিরাময় সম্ভব। তা ছাড়া দরিদ্র জনগোষ্ঠী বিনা মূল্যে বা কম খরচে স্বাস্থ্যসেবা পান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।

উপজেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠার পর ১০ বছরেও রাঙ্গাবালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স না হওয়া বিস্ময়কর। মৌলিক অধিকার হওয়ায় স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে যাতে কোনো বৈষম্য না ঘটে, তার জন্য রাষ্ট্র অঙ্গীকারবদ্ধ। কিন্তু রাঙ্গাবালীর জনগণের স্বাস্থ্যসেবার যে চিত্র, তাতে স্পষ্ট যে তারা চরম অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য পাঁচ একর ভূমি অধিগ্রহণের অনুমোদন পাওয়া গেছে। সেখানে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ করে উপজেলাবাসীকে বঞ্চনা ও দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিন। তার আগে স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দিতে হবে।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন