হরিজন 'অস্পৃশ্য' কেন?

হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষকে কেন ‘অস্পৃশ্য’ মনে করা হয়? যে রাষ্ট্রের জন্মলগ্নে তার সব নাগরিকের জন্য সমতা, সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত হয়েছে, সেখানে কেন এই অন্ত্যজ, সুবিধাবঞ্চিত সম্প্রদায়ের মানুষেরা সীমাহীন বৈষম্যের শিকার? এই একুশ শতকেও কেন তারা মানবিক মর্যাদা থেকে বঞ্চিত?
এই প্রশ্নগুলো উচ্চারিত হচ্ছে চুয়াডাঙ্গায় অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে। ‘সকলের জন্য মানবাধিকার: প্রসঙ্গ অস্পৃশ্যতা’ শীর্ষক ওই সেমিনারে তিনি হরিজন সম্প্রদায়ের প্রতি এ সমাজের বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গি ও আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে যথার্থভাবেই সংবাদমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
হরিজনেরা এ সমাজের সবচেয়ে দরিদ্র, অনগ্রসর ও সুবিধাবঞ্চিত সম্প্রদায়গুলোর অন্যতম। তাদের অর্থনৈতিক দুর্দশার পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক মর্যাদার অভাব যারপরনাই বেদনাদায়ক। এর পেছনে সবচেয়ে বড় যে কারণটি ক্রিয়াশীল, তা হলো তাদের প্রতি সমাজের বৃহত্তর অংশের হীন দৃষ্টিভঙ্গি। মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান যা বলেছেন তা এ রকম: হরিজনদের জন্য সুইপার বা পরিচ্ছন্নতাকর্মীর যেসব চাকরি বরাদ্দ আছে, এ সমাজের মানুষের সেসব পদে চাকরি করতে কোনো লজ্জা বোধ হয় না, কিন্তু তাদের পাশে বসে চা খেতে রুচিতে বাধে। এই দৃষ্টিভঙ্গিকে মিজানুর রহমান সংগতভাবেই ‘বেহায়াপনা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন রাষ্ট্র এটা সহ্য করতে পারে না; এটা বন্ধ করতে হবে এবং এখনই।
অবশ্য সে জন্য রাষ্ট্রের বা সরকারের ভূমিকা যতটা, তার চেয়েও বেশি ভূমিকা পালন করতে হবে সমাজকে। কারণ, মূল সমস্যা নিহিত আছে হরিজনদের ব্যাপারে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে। এই দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের কাজে সমাজের মানুষকেই এগিয়ে আসতে হবে। অবশ্য রাষ্ট্রকে কিছু ভিত্তিমূলক দায়িত্ব পালন করতে হবে: শিক্ষা, চাকরিবাকরি, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর দিকে জোর দিতে হবে। স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি প্রশাসন, সংসদ সদস্য ও অন্য জনপ্রতিনিধিরা হরিজনদের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দিলেও তাদের অবস্থার উন্নতি হতে পারে।

আরও পড়ুন: