default-image

সুনামগঞ্জের হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ যে নির্ধারিত সময়ে শেষ হবে না, সেটা অনেকটাই স্পষ্ট। কারণ, সময় নির্ধারিত ছিল ৭৫ দিন এবং ৬৪ দিন চলে যাওয়ার পর দেখা যাচ্ছে অর্ধেকের বেশি কাজ বাকি রয়ে গেছে। বাকি ১১ দিনে এ কাজ শেষ করা কার্যত অসম্ভব। ফলে অকাল কোনো বন্যা হলে পরিস্থিতি শোচনীয় হতে পারে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করতে না পারা বা কাজের এ ঢিলেমির দায় কার?

সুনামগঞ্জের হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে গত ১৫ ডিসেম্বর। কাজ শেষ করার সময় ২৮ ফেব্রুয়ারি। পরিকল্পনা অনুযায়ী এবার ৬১৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের কাজ হওয়ার কথা রয়েছে। এ জন্য ৭৭৯টি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। আগে বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারের কাজগুলো হতো ঠিকাদারের মাধ্যমে। এখন তা হয় প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) মাধ্যমে। প্রতিটি প্রকল্পের জন্য আলাদা পিআইসি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির মধ্যে স্থানীয় কৃষকসহ অংশীজনের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে।

এ বাঁধের পুরো কাজ ও প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার দায়িত্ব পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও স্থানীয় প্রশাসনের। অভিযোগ আছে, এবারের প্রকল্প নির্ধারণ ও পিআইসি গঠন থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্রে পাউবো ও প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব ঘটেছে। বাঁধ নির্মাণ ও প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে গাফিলতি ও নানা অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে। ফলে বর্তমান অনিশ্চিত পরিস্থিতির দায় পাউবো ও স্থানীয় প্রশাসনের ওপর এসে পড়ে।

বিজ্ঞাপন

যথাসময়ে বাঁধের কাজ শেষ না হওয়ার পরিণতিতে যদি কোনো কারণে ২০১৭ সালের মতো বিপর্যয় ঘটে, তবে এর জন্য বাঁধ নির্মাণে পিআইসি পদ্ধতিকে দায়ী করা সহজ হবে। অভিযোগ আছে যে পাউবো ও স্থানীয় প্রশাসনের কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ঠিকাদারি ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার পক্ষে। কেন কেউ কেউ এমনটি চায়, তা বুঝতে কষ্ট হওয়ার কথা নয়। ঠিকাদারি প্রথা কার্যকর থাকলে ভাগ-বাঁটোয়ারার সুযোগ থাকে। ফলে ইচ্ছা করে কোনো মহল বাঁধ নির্মাণপ্রক্রিয়াকে বিলম্ব করছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা জরুরি।

এবারের বাঁধ নির্মাণপ্রক্রিয়ায় বিলম্ব নিয়ে স্থানীয় কৃষকদের বাড়তি ভয়ের একটি কারণ রয়েছে। তাঁরা তাঁদের অভিজ্ঞতা থেকে এটা মনে করেন যে সাধারণত তিন–চার বছরের বিরতিতে অস্বাভাবিক বা অকালবন্যা বা ঢলের ঘটনা ঘটে। ২০১৭ সালের পর এমন কিছু না ঘটায় অনেকে এবার বিপদের আশঙ্কা করছেন। ফলে বাঁধ নির্মাণে বিলম্বের কারণে কোনো অঘটন ঘটলে তার দায় পাউবো ও স্থানীয় প্রশাসনকে নিতে হবে।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন