বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাইবান্ধার হতদরিদ্র একটি পরিবারের একটি কিশোর সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হলে তাকে জরুরি ভিত্তিতে এই হাসপাতালে আনা হয়। দ্রুত অক্সিজেন মাস্ক লাগিয়ে ট্রলিতে তুলে ট্রলি ঠেলে তাকে তৃতীয় তলায় নেওয়া হয়। ঠেলে নেওয়ার কাজে সহায়তা দিয়েছিলেন হাসপাতালের খণ্ডকালীন কর্মী আসাদুজ্জামান। তিনি ট্রলি ঠেলে ২০০ টাকা বকশিশ দাবি করলে আহত কিশোরের হতদরিদ্র
বাবা তাঁকে ১৫০ টাকা দেন। দাবির পুরো টাকা না পেয়ে আসাদুজ্জামান অক্সিজেন মাস্ক খুলে ফেলেন। এতে কয়েক মিনিটের মধ্যেই ওই কিশোর মারা যায়। ঘটনার পর আসাদুজ্জামান পলাতক ছিলেন। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

একজন গুরুতর আহত মানুষের অক্সিজেন মাস্ক খুলে ফেললে যে তার মৃত্যু হতে পারে, তা একজন হাসপাতালকর্মীর না বোঝার কোনো কারণ নেই। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে এটি হত্যাকাণ্ডের শামিল। প্রশ্ন হলো, দাবি করা টাকা থেকে ৫০ টাকা কম পাওয়ায় আসাদুজ্জামান কেন এমন ক্ষিপ্ত হলেন? এর সম্ভাব্য জবাব হলো, দীর্ঘদিন ধরে ‌বকশিশ এভাবে আদায় করতে করতে আসাদুজ্জামান এবং তঁার মতো হাসপাতাল কর্মীদের মধ্য এই বিশ্বাস দৃঢ় হয়েছে যে এটি তঁার অবশ্যপ্রাপ্য টাকা। এই টাকা দিতে রোগীর স্বজনেরা বাধ্য।

গ্রেপ্তার আসাদুজ্জামানের দৃষ্টান্তমূলক সাজা নিশ্চিত করে এবং দেশের সব সরকারি হাসপাতালে শুদ্ধি অভিযান চালিয়ে ‌‘বকশিশখোর’ কর্মীদের অবশ্যপ্রাপ্যতার চিন্তা থেকে বের করে আনতে হবে। নইলে এমন কাণ্ড আরও ঘটার সুযোগ থেকে যাবে।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন