বিজ্ঞাপন

কিন্তু এত দীর্ঘ সময় তাঁরা চাষ করতে পারেননি কেন? তাঁদের জমি কি ব্যাংকের কাছে বাঁধা ছিল? কেউ কি তঁাদের জায়গা জবরদখল করে রেখেছিল? কিংবা তঁাদের জমি কি জলাবদ্ধ হয়ে ছিল? কোনোটাই না। তাঁদের জমি তাদের কাছেই ছিল, তারপরও সিকি শতাব্দী হয় জমি চাষ করতে পারছিলেন না তাঁরা, কিংবা চষলেও খেত থেকে কোনো ফসল আসছিল না। শতাধিক ইটভাটার কারণে চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল এসব জমি, আস্তে আস্তে কৃষিশূন্য হয়ে পড়েছিল পুরো এলাকা। ইটভাটার কালো ধোঁয়া আর ধুলাবালুতে আচ্ছন্ন হয়ে থাকত পরিবেশ। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে উচ্চ আদালতের নির্দেশে গাজীপুর জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর অবশেষে ভেঙে দিয়েছে এসব ইটভাটা। উপযুক্ত পরিবেশ পেয়ে চলতি বোরো মৌসুমে আবার ধানসহ বিভিন্ন ফলের আবাদ করেন কৃষক। সেই ধানই এখন কাটছেন তঁারা।

কৃষককে তঁার জমিতে চাষ করার পরিবেশ ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরকে লড়াই করতে হয়েছে আট বছর। ২০১৩ সালে পাস হয় ‘ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন’। সেই বছরই সিটি করপোরেশন এলাকা থেকে ইটভাটা সরিয়ে নিতে মালিকদের চিঠি দেয় গাজীপুর পরিবেশ অধিদপ্তর। কিন্তু উচ্চ আদালতে রিট করে বিচারিক দীর্ঘসূত্রতার সুযোগ নিয়ে বছরের পর বছর ধরে নির্বিঘ্নে ভাটাগুলো চলতে থাকে। অবশেষে ২০১৯ সালে উচ্চ আদালত অবৈধ ইটভাটা বন্ধের আদেশ দেন। আবার সবুজ হাসিতে ভরে গেছে এলাকার মাঠঘাট।

গাজীপুরের এ অর্জন আমাদের আশাবাদী করে তুলেছে। গাজীপুরের আগে পর্যন্ত চিত্রটা ছিল, অভিযান হতো, জরিমানা হতো, বন্ধ করে দেওয়া হতো ইটভাটা, তারপর আবার আইন ও প্রশাসনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চালু হতো ইটভাটা। গাজীপুর মনে হয় এ চক্র থেকে বেরোতে পেরেছে। অন্য জেলাগুলোও এ দৃষ্টান্ত অনুসরণ করুক।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন