শিক্ষার্থীরা মালিকপক্ষের ঘোষণা মেনে নেননি। তাঁরা বলেছেন, শর্তসাপেক্ষ ঘোষণা মানবেন না; ৯ দফা বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। শিক্ষার্থীদের দাবি, কেবল মৌখিক ঘোষণা দিলে হবে না; এ বিষয়ে পরিপত্র প্রকাশ করতে হবে। হাফ পাসের দাবিতে ঢাকার বাইরেও শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি পালন করেছেন। গত সোম ও মঙ্গলবার চট্টগ্রামে শিক্ষার্থীরা হাফ পাসের দাবিতে শহরের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করেছেন। চট্টগ্রামের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কয়েক শ শিক্ষার্থী এই বিক্ষোভে অংশ নেন। একজন শিক্ষার্থী বলেছেন, সড়কে একের পর এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হচ্ছে। এর প্রতিকার চান তাঁরা। আর কোনো মায়ের বুক যাতে খালি না হয়, সেটাই তাঁরা চান।

এখন সরকারকে বুঝতে হবে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন আর হাফ পাসের মধ্যে সীমিত নেই। হাফ পাসের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালে ঢাকায় তিনটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। গত সপ্তাহে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ি গুলিস্তানে চাপা দেয় নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী নাঈম হাসানকে। মাত্র এক দিনের ব্যবধানে উত্তর সিটি করপোরেশনের আরেকটি ময়লার গাড়ি পান্থপথে সংবাদকর্মী আহসান কবীর খানকে চাপা দেয়। সোমবার রাতে রামপুরায় দুই পরিবহনের দুটি বাস প্রতিযোগিতা করে চালাতে গিয়ে মাইনুদ্দিন ইসলাম নামের এক শিক্ষার্থীকে চাপা দেয়, সে এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। প্রথম আলোর খবরে জানা গেছে, দুই সিটি করপোরেশনের গাড়ি যাঁরা চালাচ্ছিলেন, তাঁরা কেউ সিটি করপোরেশনের লাইসেন্সধারী চালক নন।

সড়কে সামগ্রিক নৈরাজ্যের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা সড়ক আইন বাস্তবায়নসহ ৯ দফা দাবিতে আন্দোলন করছেন, তাকে অযৌক্তিক বলা যাবে না। যদি সড়কে যাত্রীদের নিরাপত্তাই না থাকে, তাহলে হাফ পাস দিয়ে কী হবে? বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে যাঁরা মানুষ হত্যা করেছেন, তাঁদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। বিচারহীনতার কারণেই আমাদের সড়ক-মহাসড়কগুলো মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। সড়কে যে বিশৃঙ্খলা চলছে, তাকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে হবে।

তাই, আমাদের আহ্বান থাকবে, কেবল ঢাকা শহরে নয়, সারা দেশেই শিক্ষার্থীদের হাফ পাস চালু করা হোক। ২০১৮ সালে শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে সরকার যে সড়ক পরিবহন আইন করেছিল, তার বাস্তবায়ন নিয়ে টালবাহানা মোটেই কাম্য নয়। সরকার নিজে নিজের আইন অমান্য করতে পারে না।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন