এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে কম বরাদ্দ পাওয়া কয়েকটি জেলা হচ্ছে ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, কুড়িগ্রাম, বরগুনা—যাদের প্রতিটির প্রাপ্তি শতকরা ০ দশমিক ২০ ভাগের মতো। এই খাতের জন্য বৈষম্য পরিমাপক পালমা রেশিওর মান ১২ দশমিক ৬৩, যা উচ্চমাত্রার বৈষম্য নির্দেশ করে। উল্লেখ্য, পালমা রেশিওতে সর্বোচ্চ বরাদ্দপ্রাপ্ত ১০ ভাগের মোট প্রাপ্তির সঙ্গে সর্বনিম্ন বরাদ্দপ্রাপ্ত ৪০ ভাগের মোট প্রাপ্তির তুলনা করা হয়।

সরকারের নীতিনির্ধারকেরা মুখে বিকেন্দ্রীকরণের কথা বলেন কিন্তু তাঁদের কাজে বিপরীত চিত্রই প্রতিফলিত হয়। যেখানে লোকসংখ্যা বেশি সেখানে আবাসন ও নাগরিক সেবার চাহিদাও বেশি থাকবে, সেটাই স্বাভাবিক। এ ক্ষেত্রে ভারসাম্য আনার উপায় কী। মানুষ কর্মসংস্থানের জন্য বড় শহরগুলোয় ছুটে যান। ছোট শহরগুলোয় কর্মসংস্থান বাড়াতে পারলে তাঁরাও সেখানে যেতে আগ্রহী হবেন। কিন্তু সরকার সে ধরনের টেকসই কোনো পরিকল্পনা নিয়েছে কি?

কোনো সুযোগ-সুবিধা না দিয়ে ছোট শহর বা গ্রামাঞ্চলে যেতে বললেই মানুষ যাবে না। তাঁরা দেখতে চাইবেন, সেখানে কাজের সুযোগ আছে কি না। গত দুই বা আড়াই দশকে নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুরে যে লোকসংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, তার কারণ এ দুই এলাকায় প্রচুর শিল্পকারখানা গড়ে উঠেছে। এই শিল্পকারখানাগুলো অন্য কোনো শহরে স্থাপিত হলে সেখানেও মানুষ যেতেন।

সরকার সারা দেশে ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠন করেছে; নীতি হিসেবে এটি খুবই ভালো। কিন্তু এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলে অবকাঠামোর উন্নয়ন না হলে এবং পরিষেবা না বাড়লে উদ্যোক্তা ও শ্রমিকেরা যেতে উৎসাহী হবেন না। প্রত্যন্ত অঞ্চলের জেলা শহরগুলো ঘিরে ভারী শিল্পকারখানা না হোক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের শিল্প গড়ে উঠতে পারে।

ঢাকা শহরে লোকসংখ্যা বাড়ার আরেকটি কারণ আমাদের প্রশাসনিক কেন্দ্রও এটি। কেন্দ্রমুখী শাসনব্যবস্থার কারণে মানুষকে ছোটখাটো কাজেও ঢাকায় আসতে হয়। স্থানীয় সরকার সংস্থাগুলো শক্তিশালী হলে ঢাকামুখী জনস্রোত কিছুটা হলেও মন্থর হতো।

আগামী দিনের নগরায়ণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হলে দেশের বিভাগীয়, জেলা, উপজেলা ও পৌর এলাকার শহরগুলোর জন্য টেকসই পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন উদ্যোগ জরুরি। সেই সঙ্গে সরকারকে বিকেন্দ্রীকরণের গালভরা বুলি না আওড়িয়ে সত্যি সত্যি গ্রাম শহরের সুবিধা নিশ্চিত করুন। উন্নয়ন পরিকল্পনাকে ঢেলে সাজান।