এমন কাজই ১৪ বছর ধরে করে যাচ্ছেন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার শ্রীফলতলা গ্রামের আলেয়া খাতুন। যাঁর প্রচেষ্টায় এখন পর্যন্ত ৩০০ মানুষ আত্মহননের পথ থেকে ফিরে এসেছেন। একই সময়ে ১০টি গ্রামের ৬ হাজার মানুষকে আত্মহত্যার কুফল সম্পর্কে তিনি জানিয়েছেন।

অথচ ৩০ বছর আগে বাল্যবিবাহের শিকার হওয়া আলেয়া খাতুন শ্বশুরবাড়িতে বঞ্চনা-গঞ্জনার শিকার হয়ে কয়েকবার আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন। প্রতিবারই তিনি ব্যর্থ হন। শেষবার আত্মহত্যা করতে গেলে মাহফুজা বেগম নামের এক এনজিও কর্মীর সঙ্গে তাঁর দেখা হয়।

তাঁর স্পর্শে তিনি জীবনের পথে ফেরত আসেন। সেই মাহফুজা বেগমের মাধ্যমেই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘শোভা’ থেকে আলেয়া প্রশিক্ষণ পান আত্মহননের পথ থেকে মানুষকে ফেরানোর। এরপর তিনি গ্রাম থেকে গ্রামে, বাড়ি থেকে বাড়িতে, উঠান থেকে উঠানে ছুটে বেড়ান। পারিবারিক গঞ্জনা বা দাম্পত্য কলহের শিকার নারীরা যখন আত্মহত্যাকেই সমাধানের পথ ভাবেন, তখন আলেয়া তাঁদের পাশে দাঁড়ান।   

বাংলাদেশের অন্যতম আত্মহত্যাপ্রবণ এলাকা ঝিনাইদহ। ২০১০ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত জেলাটিতে ৩ হাজার ৮৯০ জন আত্মহত্যা করেছেন। এই সময়ের মধ্যে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন প্রায় ২৬ হাজার নারী-পুরুষ। একজন আলেয়া খাতুন না থাকলে হয়তো সেখানে আরও কিছু মানুষের নাম যুক্ত হতো। তাঁর প্রচেষ্টায় ঝিনাইদহের পূর্বাঞ্চলে আত্মহত্যা কমে এসেছে।

হাটগোপালপুরের গ্রামের রাজিয়া সুলতানা, লৌহজং গ্রামের রাবেয়া খাতুনের মতো অনেকেই বলছেন, আলেয়ার জন্য তাঁরা ভালোভাবে বাঁচতে শিখেছেন। এখন তাঁরা আত্মহত্যার কথা ঘুণাক্ষরেও ভাবেন না।

যৌন হয়রানি, নারী নিপীড়ন, বাল্যবিবাহ, যৌতুকের বিরুদ্ধেও মানুষকে সচেতন করে তোলেন তিনি। দেশের প্রতিটি এলাকায় যদি একজন আলেয়া খাতুন উঠে আসেন, তবে বদলে যাবে অনেক কিছুই। তাঁর প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।