ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, রংপুর, খুলনা ও বরিশালে তাদের কর্মসূচি মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবে উদ্‌যাপিত হয়েছে। সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোথাও বাধা দেয়নি। সরকারের এ সিদ্ধান্ত ইতিবাচক বলেই ধারণা করি, যেখানে অতীতে বিএনপি সমাবেশের অনুমতিই পেত না।

এটি যেমন স্বস্তির দিক, তেমনি অস্বস্তিকর হলো বিএনপি যেখানেই সমাবেশ করেছে, সেখানে পরিবহনমালিক ও শ্রমিকেরা আকস্মিক ধর্মঘট পালন করেছেন। কখনো তাঁরা নিরাপত্তার অজুহাত তুলেছেন, কখনো মহাসড়কে নছিমন-করিমন বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন। এতে যে কেবল সমাবেশগামী মানুষই ভোগান্তিতে পড়েছে তা নয়, সাধারণ মানুষও সীমাহীন হয়রানির শিকার হয়েছে। কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বন্ধ হওয়া জরুরি।

ইতিমধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠন যুবলীগ, ছাত্রলীগও রাজপথ দখলে রাখার ঘোষণা দিয়েছে এবং নানা উপলক্ষে মহাসমাবেশের কর্মসূচি নিয়েছে। আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল হবে ২৬ ডিসেম্বর। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন ৩ ডিসেম্বর। যুবলীগের সমাবেশের দিন ধার্য হয়েছে ১১ নভেম্বর। অন্যান্য বিভাগীয় গণসমাবেশ শেষ করে বিএনপি ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছে। নানা কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নেমেছে অন্যান্য দলও।

শান্তিপূর্ণ সভা–সমাবেশ করা গণতান্ত্রিক অধিকার। এর মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের কর্মসূচি ও পরিকল্পনার কথা দেশবাসীকে জানাতে পারে। কিন্তু এসব কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে একে অপরকে দেখে নেওয়া এবং দেখিয়ে দেওয়ার আওয়াজ শান্তিকামী মানুষকে উদ্বিগ্ন না করে পারে না।

দেশ যখন অর্থনৈতিকভাবে ভয়াবহ সংকটের মুখে, তখন কোনো পক্ষেরই এমন কিছু করা ঠিক হবে না, যাতে দেশের সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি হয়। রাজপথে ফয়সালা করা কিংবা রাজপথ দখল করার হুমকি-ধমকি কোনোভাবে কাম্য নয়।

সবার ওপরে দেশ ও দেশের জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। আর নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের সমাধানও করতে হবে আলোচনার মাধ্যমে; যদিও আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব আলোচনাকে এড়িয়ে চলতেই অভ্যস্ত। তাদের মনে রাখতে হবে, প্রতিপক্ষকে রাজপথে মোকাবিলা কিংবা ফয়সালার পরিণাম কখনো মঙ্গলজনক হয় না।