গত এক দশকে ব্যাংকিং খাতে বড় বড় আর্থিক কেলেঙ্কারি হলেও খুব কম ক্ষেত্রেই অপরাধীরা শাস্তি পেয়েছেন। বিশেষ করে সোনালী ব্যাংকের হলমার্ক কেলেঙ্কারি, বেসিক ব্যাংক ও জনতা ব্যাংকের লুটপাটের ঘটনার বিচার হয়নি। বেসরকারি পদ্মা, এনআরবি কমার্শিয়াল, এবি ব্যাংকের দুর্নীতির ঘটনায়ও কেউ শাস্তি পাননি। সম্প্রতি ইউনিয়ন ব্যাংকের অনিয়ম নিয়ে যে অভিযোগ গণমাধ্যমে এসেছে, সে সম্পর্কে তদন্তের কথাও জানা যায় না। একাধিক বেসরকারি ব্যাংকের মালিকানা বদলও হয়েছে অদৃশ্য শক্তির ইশারায়; যার সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতারা জড়িত বলে অভিযোগ আছে।

ব্যাংকিং খাত নিয়ন্ত্রণ করে থাকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। যদিও এ প্রতিষ্ঠানের ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর কতটা কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ আছে, সেসব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি ব্যাংকগুলোর ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ আছে সামান্যই। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক বিভাগ কেন্দ্রীয় ব্যাংককে না জানিয়েই অনেক সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে।

ন্যাশনাল ব্যাংকসহ বেসরকারি খাতের বেশ কিছু ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা উপেক্ষা করলেও বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এর কারণ এসব ব্যাংক যাঁরা পরিচালনা করেন, তাঁদের অদৃশ্য ক্ষমতা ব্যাংকের দৃশ্যমান ক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি। আবার পি কে হালদারের পিপলস লিজিং কোম্পানির কেলেঙ্কারির সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক শীর্ষস্থানীয় একাধিক কর্মকর্তার যোগসাজশের ঘটনাও ফাঁস হয়েছে। পি কে হালদার কয়েক হাজার কোটি টাকা পাচার করে এখন ভারতে বিচারাধীন। তাঁকে ফেরত আনার চেষ্টাও এখন পর্যন্ত সফল হয়নি।

ব্যাংকিং খাতের সাংঘাতিক অপরাধ নিয়ে উচ্চ আদালতের এই উদ্বেগ ও ভর্ৎসনার পর এই খাতের সুরক্ষায় সরকার কী ব্যবস্থা নেয়, সেটাই দেখার বিষয়। একদিকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে চলেছে, অন্যদিকে ঋণখেলাপিদের নানা রকম সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। সরকারের এই স্ববিরোধী নীতিতে ঋণখেলাপিদের পোয়াবারো হলেও যাঁরা সময়মতো ঋণ পরিশোধ করেন, তাঁরা নিরুৎসাহিত হবেন।

ব্যাংকিং খাতের দুর্নীতি ও নৈরাজ্য দূর করতে এখনই সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। বাছাই করা বিচার নয়, গত এক যুগে সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকে যেসব আর্থিক কেলেঙ্কারি ঘটেছে, তার প্রতিটি ক্ষেত্রে দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। অপরাধের শাস্তিই পারে ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন